সন্দেশখালিতে মধ্যরাতে রক্তগঙ্গা! ওসির পায়ে গুলি, আক্রান্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীও; এলাকা দখল নিয়ে তুলকালাম!

ভোটপর্ব মিটলেও শান্তি ফিরল না বাংলায়। এবার উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে পুলিশের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা সামনে এল। মঙ্গলবার রাতে ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি এলাকায় দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হলেন থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়ত। শুধু তাই নয়, দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া গুলিতে আহত হয়েছেন আরও দুই পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CRPF) দুই জওয়ান।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে রাজবাড়ি এলাকায় একটি বাড়িতে ভাঙচুর ও দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ন্যাজাট থানার পুলিশ এবং একদল সিআরপিএফ জওয়ান। অভিযোগ, বাহিনী এলাকায় ঢুকতেই একটি বাড়ির ভিতর থেকে তাঁদের লক্ষ্য করে আচমকা গুলি চালাতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা।
অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে চালানো এই গুলিবৃষ্টিতে ওসির পায়ে গুলি লাগে। এছাড়াও একজন মহিলা কনস্টেবল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা জখম হন। তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে এবং পরে বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁরা।
উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা:
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে তল্লাশি শুরু করে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র, কয়েক রাউন্ড কার্তুজ এবং একাধিক তাজা বোমা। এলাকা বর্তমানে থমথমে, মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
কমিশনের কড়া নজরদারি:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আগেই জানিয়েছিলেন যে, ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে থাকবে এবং উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্দেশখালির এই ঘটনার পর প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনোভাবেই হিংসা বা প্রতিপক্ষের পার্টি অফিস দখল বরদাস্ত করা হবে না।
ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর আসলেও, সন্দেশখালিতে খোদ পুলিশের ওপর এই সশস্ত্র হামলা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। দোষীদের খোঁজে এলাকায় তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছে ন্যাজাট থানার পুলিশ।