রণবীর সিংকে ‘শক্তিমান’ করতে মরিয়া কিলভিশ! মুকেশ খান্নার জেদ ভাঙতে কী চাল চাললেন সুরেন্দ্র পাল?

নব্বই দশকের ছোট পর্দার সেই অবিস্মরণীয় লড়াই আজও দর্শকদের মনে টাটকা। একদিকে ন্যায়ের প্রতীক ‘শক্তিমান’, অন্যদিকে অন্ধকারের সম্রাট ‘কিলভিশ’। কিন্তু ২০২৬-এ এসে সেই লড়াই আর কাল্পনিক নেই। বড় পর্দায় শক্তিমানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে খোদ মুকেশ খান্না এবং সুরেন্দ্র পালের মধ্যে শুরু হয়েছে মতবিরোধ। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন বলিউডের সুপারস্টার রণবীর সিং।
সুরেন্দ্র পালের সমর্থন রণবীরকে:
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন ‘তামরাজ কিলভিশ’ খ্যাত অভিনেতা সুরেন্দ্র পাল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রণবীর সিং এই চরিত্রের জন্য মোটেও খারাপ পছন্দ নন। বরং ‘ধুরন্ধর’ সিনেমায় রণবীরের পারফরম্যান্স দেখে তিনি মুগ্ধ। সুরেন্দ্র পালের মতে, আজকের সময়ের প্রেক্ষাপটে রণবীরের যে এনার্জি এবং অভিনয় দক্ষতা, তা ‘শক্তিমান’ চরিত্রের জন্য একদম মানানসই। তিনি মুকেশ খান্নাকে অনুরোধ করেছেন নিজের একগুঁয়েমি ছেড়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে।
কেন রণবীরকে দুচোখে দেখতে পারছেন না মুকেশ?
মুকেশ খান্না বরাবরই ঠোঁটকাটা। নিজের সৃষ্টি করা এই কাল্ট চরিত্রটিকে তিনি সন্তানের মতো আগলে রাখেন। তাঁর সাফ কথা, শক্তিমান হতে গেলে কেবল ভালো অভিনেতা হলে চলে না, সেই বিশেষ ব্যক্তিত্ব ও আধ্যাত্মিক ভাবমূর্তি থাকতে হয়। মুকেশ খান্নার দাবি, রণবীর সিং খিলজি বা গল্লি বয় হিসেবে সফল হলেও, শক্তিমানের সেই ‘শান্ত ও সৌম্য’ ভাব তাঁর মধ্যে নেই। এই কাস্টিং পছন্দ না হওয়ায় মোটা টাকার বড় বাজেটের চুক্তি ফিরিয়ে দিতেও পিছপা হননি তিনি। তাঁর ইচ্ছা ছিল, দেশজুড়ে অডিশন নিয়ে কোনো নতুন মুখকে এই সুযোগ দেওয়া হোক।
অনিশ্চয়তায় বড় পর্দার ‘শক্তিমান’:
সোনি পিকচার্স যখন রণবীর সিংকে নিয়ে বড় বাজেটে এই প্রজেক্ট শুরু করতে আগ্রহী, তখন মুকেশ খান্নার এই অনড় অবস্থান ছবির ভবিষ্যৎকে কিছুটা অনিশ্চিত করে তুলছে। সুরেন্দ্র পাল মনে করেন, সময়ের সাথে ভাবনাচিন্তায় পরিবর্তন আনা জরুরি। মুকেশ খান্না অত্যন্ত একগুঁয়ে বলেই এই জট কাটছে না বলে তাঁর ধারণা।
তবে কি এবার চিরশত্রু কিলভিশের কথা শুনে মন গলবে শক্তিমানের? রণবীর সিং কি শেষমেশ গঙ্গাধর থেকে সুপারহিরো হয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন? উত্তর লুকিয়ে আছে সময়ের গর্ভে। তবে আপাতত প্রবীণ দুই সহকর্মীর এই মতবিরোধ বি-টাউনে নতুন করে আলোচনার রসদ জুগিয়েছে।