মুখ্যমন্ত্রী নন, বিধায়কও নন! তবু কেন ইস্তফা দিচ্ছেন না মমতা? রাজভবনের কড়া পদক্ষেপ কি সময়ের অপেক্ষা?

বাংলার রাজনীতিতে যেন ২০১১ সালের চাকা উল্টো দিকে ঘুরল। সেবার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল প্রকাশের দিনই রাজভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬-এর ‘গেরুয়া ঝড়ে’ পর্যুদস্ত হওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত কেন ইস্তফা দিলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? খোদ নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে হারের মুখ দেখার পর তাঁর এই নীরবতা ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে বইছে বিতর্কের ঝড়।
রীতি কি ভাঙছেন মমতা?
সংসদীয় গণতন্ত্রের অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকার পতন নিশ্চিত হলেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর পদত্যাগপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দিতে হয়। সোমবারই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবন না গিয়ে সরাসরি পৌঁছে যান শাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাইস্কুলের গণনাকেন্দ্রে। সেখান থেকে বেরিয়ে ‘ভোট লুঠ’ ও ‘১০০ আসন চুরির’ অভিযোগ তুলে সরব হন তিনি। কিন্তু ইস্তফা নিয়ে টু শব্দটিও করেননি।
কেন এই বিলম্ব? আদালতের পথে হাঁটছে ঘাসফুল?
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, মমতা কি তবে পরাজয় মানতে পারছেন না? তৃণমূল সূত্রের খবর, পরাজয়কে ‘অনৈতিক’ বলে দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছে দল। আজ বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মমতার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, আইনি লড়াই নাকি পদত্যাগ—পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা ওই বৈঠকের পরেই স্পষ্ট হবে।
কড়া পদক্ষেপের পথে কি রাজভবন?
ইস্তফা না দিলে পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় জট তৈরি হতে পারে। রাজ্যপাল সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গড়তে আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। সূত্রের খবর, রাজভবন ইতিমধ্যেই এই আইনি দিকটি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যপাল কি কোনো বিশেষ পদক্ষেপ করবেন? সেই প্রশ্নই এখন সবথেকে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজেপির এই জয়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো কি সত্যিই কোনো বড় চমক দেবেন, নাকি শেষ পর্যন্ত প্রথা মেনে ইস্তফা দেবেন? গোটা বাংলার নজর এখন কালীঘাটের বৈঠকের দিকে।