হাইকোর্টেও এবার বিশাল বদল! রাজ্যের সব আইনজীবী ছাঁটাইয়ের পথে? প্রধান বিচারপতির দ্বারে বিজেপি!

সোমবারই অবসান হয়েছে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের। রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর এই পালাবদলের রেশ এবার আছড়ে পড়ল কলকাতা হাইকোর্টেও। প্রশাসনিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই কি এবার বদলে যেতে চলেছে আদালতের সরকারি আইনজীবীদের পুরো প্যানেল? মঙ্গলবার এই প্রশ্নই উঠে এল বিচারপতির এজলাসে।
হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ
রাজ্যে সরকার বদলের চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই কলকাতা হাইকোর্টের সরকারি আইনজীবীদের প্যানেল পরিবর্তনের বিষয়ে উদ্যোগী হলেন বিজেপি সমর্থিত আইনজীবী সুস্মিতা সাহা দত্ত। এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট দাবি, যেহেতু রাজ্যে প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে, তাই বিগত সরকারের তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের দিয়ে আর কাজ চালানো সম্ভব নয়।
আবেদন জানানো হলো কেন?
আইনজীবী সুস্মিতা সাহা দত্ত আদালতে আবেদন জানান যে, নতুন বিজেপি সরকারের নিজস্ব আইনজীবীদের প্যানেল তৈরি করতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। তাই এই অন্তর্বর্তী সময়ে রাজ্য সরকার যুক্ত রয়েছে এমন কোনও মামলার রায়দান যেন আদালত স্থগিত রাখে। তাঁর আর্জি, নতুন প্যানেল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ বা রায় দেওয়া যেন আপাতত বন্ধ রাখা হয়।
প্রধান বিচারপতির আশ্বাস
বিজেপি ঘনিষ্ঠ এই আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারি মামলা লড়ার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং সরকারের প্রতি আনুগত্য একটি বড় বিষয়। তাই নবান্নের মতো হাইকোর্টের অন্দরেও যে দ্রুত ‘গেরুয়াকরণ’ হতে চলেছে, এই আবেদন তারই ইঙ্গিত।
তৃণমূল সরকারের আমলে নিযুক্ত কয়েকশো আইনজীবী এখন তাঁদের পদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায়। অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরের আইনজীবী মহলে এখন সাজ সাজ রব। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্যানেলে কারা জায়গা পান, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের আইন ও বিচার বিভাগ।