ধসে গেল সেনসেক্স-নিফটি, তলানিতে ভারতীয় রুপি! মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামায় কি দেউলিয়া হবে বিনিয়োগকারীরা?

মঙ্গলবার সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় ধস নামল। দিনের শুরুতে বিএসই-র (BSE) সংবেদনশীল সূচক সেনসেক্স ৪২০ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগে ফেলে দেয়। যদিও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাজার কিছুটা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে এখনও লাল সংকেতেই চলছে লেনদেন। বর্তমানে সেনসেক্স ১৫২.২২ পয়েন্ট বা ০.২০% কমে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, নিফটি-ও বড় পতনের পর বর্তমানে ২৪,০৬৭.৪০ পয়েন্টে ঘোরাফেরা করছে।

বাজার পতনের ৩টি প্রধান কাঁটা:
কেন হঠাৎ করে ধসে গেল বাজার? বিশেষজ্ঞরা মূলত তিনটি বিষয়কে দায়ী করছেন:

ইরান-মার্কিন সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ববাজারের মনোভাবকে নেতিবাচক করে তুলেছে। যুদ্ধের আশঙ্কায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার থেকে টাকা সরাচ্ছেন।

তেলের আগুন: ড্রোন হামলার খবরে তেলের বাজার অস্থির। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার ফলে অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রুপির রেকর্ড পতন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে (৯৫.৩৩) পৌঁছেছে। দুর্বল রুপি আমদানির খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা বাজারের জন্য বড় দুঃসংবাদ।

এশীয় ও মার্কিন বাজারের চিত্র
মঙ্গলবার চীন ও জাপানের মতো প্রধান এশীয় বাজারগুলো বন্ধ থাকলেও দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কোসপি’ সূচক গত ২৮ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। তবে মার্কিন বাজারের ছবিটা বেশ করুণ। সোমবার রাতে উচ্চ তেলের দামের প্রভাবে ডাও জোন্স ৫৫৭ পয়েন্টের বেশি পড়ে বন্ধ হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক— উভয় সূচকই নিম্নমুখী ছিল।

পেট্রোলিয়াম শিল্পে ড্রোন হামলা ও তেলের বাজারে কম্পন
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ থেকে আসা একটি খবর সোমবার রাতে তেলের বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়। জানা গেছে, ইরানি ড্রোন হামলার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোলিয়াম শিল্প এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই খবরের পরপরই ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৩ ডলার এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ ডলারের বেশি লাফিয়ে বাড়ে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড ১১৩.৭৭ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ১০৫.০২ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা না কাটলে ভারতের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা বজায় থাকবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এখন সাবধানে পা ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।