প্রথম ক্যাবিনেটেই বড় চমক! বঙ্গে শুরু হচ্ছে মোদীর এই ৫ প্রকল্প, আপনি কী কী পাবেন?

১৫ বছরের দীর্ঘ তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বঙ্গে গেরুয়া ঝড় ওঠার পর থেকেই রাজ্যবাসীর নজর এখন নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার দিকে। এই আবহেই দিল্লির বিজেপি সদর দফতর থেকে বড় ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নবগঠিত সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই বহু প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হবে।
মহিলাদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা ও বিশেষ সুরক্ষা
বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার বা ‘সঙ্কল্প পত্রে’ মহিলাদের জন্য একগুচ্ছ যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। নতুন সরকার গঠিত হলে রাজ্যের প্রত্যেক মহিলাকে সংসারের খরচে সহায়তার জন্য প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, নারী সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ এবং বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটালিয়ন গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধাও মিলবে।
বেকার যুবক ও সরকারি কর্মীদের প্রাপ্তি
কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগের অবসান ঘটাতে আগামী ৫ বছরে রাজ্যে ১ কোটি চাকরির সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। যতদিন না কর্মসংস্থান হচ্ছে, ততদিন বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা এবং বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) প্রদানের বিষয়টিও নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিপ্লব
স্বাস্থ্য পরিষেবায় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ ছাড়াও মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি (HPV) টিকা এবং স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য বড় খবর হলো, সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ এইমস (AIIMS) তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে আইআইটি (IIT) এবং আইআইএম (IIM)-এর মতো বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জন্য সুখবর
অন্নদাতাদের আয় বাড়াতে ধান, আলু ও আমের ন্যায্য সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করবে নতুন সরকার। কৃষকদের পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে মাছ রপ্তানির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
সাংস্কৃতিক নবজাগরণ
উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় একটি ‘বন্দে মাতরম জাদুঘর’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জনমুখী প্রকল্পগুলি দ্রুত কার্যকর করতে পারলে বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে।