বড় খবর: ৪৫ দিনেই মিলবে সপ্তম বেতন কমিশন! কিন্তু ডিউটির সময় নিয়ে আসছে বিশাল কড়াকড়ি? কাঁপুনি নবান্নে!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া এখন আছড়ে পড়েছে নবান্নের করিডোরে। রাজ্যে বিজেপির জয় নিশ্চিত হতেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ (DA) এবং নতুন বেতন কাঠামোর খুশির খবর শোনা যাচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে ডিউটির সময় ও কর্মসংস্কৃতি নিয়ে মোদী-শাহের ‘কঠোর মডেল’ প্রয়োগের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন কর্মীদের একাংশ।

৪৫ দিনেই সপ্তম বেতন কমিশন ও বকেয়া ডিএ

বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার বা ‘সংকল্প পত্রে’ সরকারি কর্মীদের জন্য ছিল সবচেয়ে বড় চমক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) কার্যকর করা হবে। বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কর্মীদের ডিএ-র মধ্যে যে প্রায় ৩৫ শতাংশের আকাশছোঁয়া ফারাক রয়েছে, তা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ফলে পকেটে টান পড়া সরকারি কর্মীদের জন্য দিন বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

৯:১৫-র ডেডলাইন: আসছে কড়া সার্ভিস রুল!

বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে ‘কঠোর ডিসিপ্লিন’ আনতে চলেছে নতুন সরকার। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসের ধাঁচেই এবার রাজ্যেও সকাল ৯:১৫ মিনিটের মধ্যে হাজিরা বাধ্যতামূলক হতে পারে। দেরি করে অফিসে ঢুকলে ক্যাজুয়াল লিভ বা সিএল (CL) কাটার নিয়ম চালু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। অতীতে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও স্পষ্ট করেছিলেন যে, কাজে ফাঁকি দেওয়া বরদাস্ত করা হবে না। ফলে নতুন জমানায় ‘পুরো সময়’ কাজ করার মানসিকতা নিয়েই অফিসে ঢুকতে হবে কর্মীদের।

বাতিল হতে পারে ৫ দিনের কর্মদিবস?

সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ দিনের কর্মদিবস (5-day work week)। ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক গতি বাড়াতে পাঁচ দিনের বদলে ছয় দিনের কর্মদিবস ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গও কি সেই পথেই হাঁটবে? নবান্নের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে অনেক বিশেষ ছুটি ছাঁটাই হতে পারে।

শূন্যপদে নিয়োগ ও শ্বেতপত্র

তৃণমূল জমানার গত ১৫ বছরের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এবং ‘দুর্নীতি’ নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। পাশাপাশি, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই রাজ্যের সমস্ত শূন্যপদে স্বচ্ছ ও মেধা-ভিত্তিক নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ‘কাট মানি’ ও ‘সিন্ডিকেট’ সংস্কৃতি রুখতে সরকারি দপ্তরে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

উপসংহার:

একদিকে পাওনা গণ্ডা বুঝে পাওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে কাজের কড়াকড়ি—এই দুইয়ের দোলাচলে এখন পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিস রুল (WBSR) নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে নবান্নের ঘরে ঘরে। বেতন আর সুযোগ-সুবিধা যেমন বাড়বে, তেমনই কাজের গুণমান ও সময়ের ক্ষেত্রেও যে কোনো আপস করা হবে না, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। বাংলার সরকারি দপ্তরে কি তবে ফিরতে চলেছে সেই হারিয়ে যাওয়া কর্মতৎপরতা? উত্তর দেবে সময়।