৭৫ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান! মে মাসের রোদে ফুটল পদ্ম, ডঃ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা আজ শান্তি পেল: আবেগঘন মোদী

দীর্ঘ কয়েক দশকের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে লেখা হলো এক নতুন অধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ জমানাকে সরিয়ে দিয়ে এই প্রথম বাংলার মসনদে বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ১৯৫১ সালে যে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে ভারতীয় জনসঙ্ঘের যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তাঁরই জন্মভিটেতে প্রথমবার গঠিত হতে চলেছে ‘শ্যামাপ্রসাদের সরকার’।
নবান্নে গেরুয়া নিশান: এক ঐতিহাসিক জয়
রাজ্যের মানুষের রায় পরিষ্কার। জোড়াফুল শিবিরকে সরিয়ে দিয়ে বাংলার শাসনভার এখন বিজেপির হাতে। এই জয়কে কেবল একটি রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না পর্যবেক্ষকরা, বরং একে বর্ণনা করছেন ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি’ হিসেবে। বিজেপির জয়ের খবর নিশ্চিত হতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক আবেগঘন বার্তায় বলেন, “ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলার জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন কয়েক দশক ধরে পূরণ হওয়ার অপেক্ষা করছিল। ৪ মে বাংলার মানুষ সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ ভারতীয় জনতা পার্টির হাতে তুলে দিয়েছে।”
লড়াই ছিল দীর্ঘ ও কঠিন
১৯৫১ সালে জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা, ১৯৫২-র নির্বাচনে ২ জন সাংসদ ও ৯ জন বিধায়ক—এভাবেই শুরু হয়েছিল পথ চলা। এরপর বহু বছর বাংলার মাটিতে গেরুয়া শিবির কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। ১৯৮০ সালে বিজেপির জন্ম হওয়ার পর কেটে গিয়েছে আরও ৪৬ বছর। বছরের পর বছর ধরে একটু একটু করে তৈরি হওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের এই ‘বিজেপি সাম্রাজ্য’।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মতে, এই জয় তাঁদের নয়, বরং সাধারণ মানুষের। তিনি বলেন, “নির্বাচনের ব্যাটন আমাদের হাতে ছিল না, ছিল মানুষের হাতে। আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে শ্যামাপ্রসাদের মাটিতে এবার তাঁর আদর্শের সরকারই তৈরি হবে।”
“ডঃ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে”
দিল্লিতে বিজয় উল্লাসের মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “১৯৫১ সালে উনি প্রতিটি কর্মকর্তাকে বলেছিলেন দেশের জন্য বাঁচতে এবং মরতে। তিনি নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন দেশই সব। আজ তাঁর আত্মা শান্তি পেয়েছে।”
পরিসংখ্যানের লড়াই: ১৯৫২ বনাম ২০২৬
ইতিহাস ফিরে দেখলে দেখা যায়, ১৯৫২ সালের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা সাউথ-ইস্ট থেকে জিতেছিলেন স্বয়ং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং মেদিনীপুর-ঝাড়গ্রাম থেকে জিতেছিলেন দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার প্রায় ৭৫ বছর পর এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের ৭৩ বছর পর ফের বাংলার বুক চিরে উড়ল গেরুয়া নিশান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি এবং দীর্ঘদিনের অপশাসনের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের এই রায় আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতেও বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। এখন সকলের নজর, কার হাত ধরে বাংলার এই নতুন ‘গেরুয়া জমানার’ যাত্রা শুরু হয়।