“৪ তারিখ স্টিয়ারিং আমার হাতে!”-অভিষেকের হুঙ্কারের মাঝেই ধস নামল তৃণমূলের দুর্গে?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের গণনায় এবার সবথেকে বড় চমক দেখা গেল হুগলি জেলায়। যে জেলাকে তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়, সেখানেই এবার বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে শাসকদল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই বহুচর্চিত ‘স্টিয়ারিং’ হাতে নেওয়ার হুঁশিয়ারির মধ্যেই দেখা যাচ্ছে, হুগলির ১৮টি আসনের মধ্যে ১১টিতেই এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি।
সিঙ্গুরে বড় বিপর্যয়: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
যে সিঙ্গুর আন্দোলন ২০১১ সালে বাংলায় ৩৪ বছরের বাম শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল, সেই সিঙ্গুরই কি এবার তৃণমূলের হাতছাড়া হতে চলেছে? প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, সিঙ্গুর কেন্দ্রে পিছিয়ে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। জমি আন্দোলন, রতন টাটার ন্যানো কারখানা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনশনের স্মৃতিবিজড়িত এই কেন্দ্রে বিজেপির লিড পাওয়ার ঘটনাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বাংলার পট পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।
কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ‘হেভিওয়েট’ পরিবার শুধু সিঙ্গুর নয়, হুগলির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রেও ছবিটা বেশ উদ্বেগজনক। উত্তরপাড়ায় খোদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় পিছিয়ে পড়েছেন বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর কাছে। একই অবস্থা চুঁচুড়া, চন্দননগর এবং বলাগড়েও। জাঙ্গিপাড়া ও সপ্তগ্রামের মতো এলাকাতেও পদ্ম শিবিরের জয়জয়কার দেখা যাচ্ছে।
অভিষেকের হুঁশিয়ারি বনাম বাস্তব চিত্র প্রচারের শেষবেলায় আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় সুর চড়িয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ বলেছিলেন, “৪ তারিখ আরামবাগের স্টিয়ারিং আমার হাতে থাকবে… দিল্লির বাবা কাকে বাঁচাতে আসে আমি দেখব।” কিন্তু গণনার প্রাথমিক ফল বলছে, আরামবাগ, গোঘাট ও খানাকুলের মতো কেন্দ্রগুলোতেও লিড নিয়েছে বিজেপি।
তৃণমূলের হাতে রইল সামান্য খড়কুটো তবে পুরো জেলা সাফ হয়ে যায়নি। শ্রীরামপুর, চাঁপদানি, চণ্ডীতলা, হরিপাল ও ধনেখালিতে এখনও লিড ধরে রাখতে পেরেছে জোড়াফুল শিবির। কিন্তু জেলার সামগ্রিক ফলাফল যেভাবে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে, তাতে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কালীঘাটের কপালে।
২০১১ সালে এই হুগলি জেলা থেকেই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। ২০২৬-এর এই ট্রেন্ড কি ফের কোনও বড় পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে? উত্তর মিলবে বিকেলের চূড়ান্ত ফলাফলে।