‘শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতব’, -BJP এগিয়ে থাকলেও জয় নিয়ে আশাবাদী মমতা

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। প্রাথমিক ট্রেন্ডে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে গণনার মাঝপথেই সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি।

চক্রান্তের অভিযোগ মমতার এক ভিডিও বার্তায় তৃণমূল নেত্রী দাবি করেছেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিজেপি নতুন করে নীল নকশা সাজিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “কেন্দ্রীয় বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। এমনকি অনেক জায়গায় ২-৩ রাউন্ড গণনার পরেই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কল্যাণীর মতো জায়গায় ইভিএমের হিসেবে গরমিল পাওয়া যাচ্ছে।” মমতার সাফ দাবি, পুলিশ এবং প্রশাসন কেন্দ্রের কাছে মাথা নত করেছে, যার ফলেই এই বিশৃঙ্খলা।

কর্মীদের মনোবল বাড়াতে বিশেষ বার্তা গণনার শুরুর দিকে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও দমে যেতে বারণ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “সন্ধের পর থেকে পরিস্থিতির বদল ঘটবে। ১৪ থেকে ১৮ রাউন্ডের গণনার পরই আসল ফলাফল সামনে আসবে। মনে রাখবেন, আমাদের বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।” সেই সঙ্গে কাউন্টিং এজেন্টদের কোনো অবস্থাতেই সেন্টার ছেড়ে না যাওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ভবানীপুরের চিত্র ও শুভেন্দুর প্রতিক্রিয়া তৃণমূল পিছিয়ে থাকলেও নিজের গড় ভবানীপুরে অবশ্য সুবিধাজনক অবস্থানেই রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে শুভেন্দু অধিকারীর তুলনায় তিনি প্রায় ১৯ হাজার ৩৯৩ ভোটে এগিয়ে আছেন।

অন্যদিকে, প্রাথমিক এই ট্রেন্ড নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিষয়টিকে ‘সামান্য ইভিএম গণনা’ বলে অভিহিত করে বলেন, “পুরো ছবিটা পরিষ্কার হতে এখনও সময় বাকি। তবে এটুকু স্পষ্ট যে ২০২১ বা ২০২৪-এর মতো ভোট এবার আর একত্রিত হয়নি। অনেক সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাতেও কংগ্রেস ভালো ভোট পাওয়ায় তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস নেমেছে।”

ভোটের ফল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা। একদিকে চক্রান্তের অভিযোগ, অন্যদিকে জয়ের আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে বাংলার রাজনীতি এক চরম নাটকীয় মোড়ে দাঁড়িয়ে।