রীতিমতো চলন্ত বিমান থেকে মরণঝাঁপ! চেন্নাই রানওয়েতে যাত্রীর কাণ্ড দেখে স্তম্ভিত পাইলট থেকে সিআইএসএফ!

আকাশে ওড়ার সময় নয়, বরং মাটি ছোঁয়ার ঠিক পরেই খাস বিমানবন্দরে ঘটে গেল এক রুদ্ধশ্বাস নাটক। শারজাহ থেকে চেন্নাইগামী এয়ার অ্যারাবিয়া বিমানের এক যাত্রীর কাণ্ডে রবিবার ভোরে তীব্র আতঙ্ক ছড়াল চেন্নাই বিমানবন্দরে। বিমানটি যখন ধীরগতিতে পার্কিংয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আচমকা জরুরি দরজা (Emergency Exit) খুলে নিচে ঝাঁপ দেন ওই যাত্রী।
ঠিক কী ঘটেছিল? বিমানবন্দর সূত্রের খবর, বিমানটি রানওয়ে ছেড়ে তখন ট্যাক্সিওয়েতে ঢুকেছে। গতি অনেকটাই কম। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে বিপত্তি। বিমানের ভেতরে থাকা যাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তি জরুরি দরজাটি খুলে ফেলেন এবং নিচে লাফ দেন। এই ঘটনায় বিমানের ভেতর হুড়োহুড়ি পড়ে যায়, মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
অসুস্থতা নাকি মানসিক অস্থিরতা? প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মাঝ আকাশেই ওই যাত্রী অসুস্থ বোধ করছিলেন। তিনি বিমানের কর্মীদের জানিয়েছিলেন যে তাঁর খুব বমি পাচ্ছে। বিমানে থাকা অবস্থায় তিনি দু’বার বমিও করেন। অনুমান করা হচ্ছে, প্রবল শারীরিক অস্বস্তি বা মানসিক অস্থিরতার জেরেই তিনি দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা: যাত্রী লাফ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাইলট এটিসি (ATC) ও কন্ট্রোল রুমে খবর দেন। সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানরা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ওই ব্যক্তিকে পাকড়াও করেন। এই ঘটনার জেরে নিরাপত্তার খাতিরে বেশ কিছুক্ষণ মূল রানওয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিল, যার ফলে অন্যান্য বিমান চলাচলের সময়সূচিতেও কিছুটা রদবদল ঘটে।
তদন্তে পুলিশ: আটক হওয়া ওই যাত্রী তামিলনাড়ুর পুদুকোট্টাইয়ের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। বিমান নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এই ঘটনায় বিমানটির কোনও যান্ত্রিক ক্ষতি হয়নি এবং অন্য কোনও যাত্রীও আহত হননি। ঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তি এমন মরিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন, তা খতিয়ে দেখছে চেন্নাই বিমানবন্দর পুলিশ।