‘মাওবাদী-মুক্ত’ দেশে রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণ! ৪ জওয়ানের মৃত্যুতে তোলপাড় ছত্তিশগড়

ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলকে ‘মাওবাদী-মুক্ত’ ঘোষণা করার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় ঘটে গেল এক ভয়ংকর বিপর্যয়। শনিবার কাঙ্কের ও নারায়ণপুর জেলার সীমানা সংলগ্ন জঙ্গলে মাওবাদীদের পুঁতে রাখা আইইডি (IED) নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ৪ জওয়ান। গত ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দেশ তথা বস্তার অঞ্চলকে সংগঠিত মাওবাদী তৎপরতা মুক্ত বলে ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষণার পর এই প্রথম বড় কোনো নাশকতামূলক দুর্ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

অপারেশন চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পুলিশ সূত্রে খবর, কাঙ্কের জেলার ছোটবেথিয়া থানার কোরোস্কোদা এলাকায় ডিআরজি (District Reserve Guard) জওয়ানদের একটি দল তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাওবাদীদের পুঁতে রাখা মাইন উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু উদ্ধার হওয়া একটি আইইডি নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়ার সময় হঠাৎ সেটি প্রবল শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে তিন জন জওয়ান ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

শহিদ হলেন ৪ বীর যোদ্ধা কাঙ্কেরের পুলিশ সুপার (SP) নিখিল রাখেচা জানিয়েছেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক জন ইন্সপেক্টর ও তিন জন কনস্টেবল। শহিদরা হলেন— ইন্সপেক্টর সুখরাম ভাট্টি, কনস্টেবল কৃষ্ণা কোমরা এবং কনস্টেবল সঞ্জয় গাধপালে। গুরুতর আহত অবস্থায় কনস্টেবল পরমানন্দ কোমরাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়। মৃত জওয়ানরা সকলেই স্থানীয় আদিবাসী যুবকদের নিয়ে গঠিত বিশেষ বাহিনী ডিআরজি-র সদস্য ছিলেন।

আইজি-র বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজ জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত কয়েক মাস ধরে বস্তার রেঞ্জের সাতটি জেলায় কয়েকশো আইইডি শনাক্ত করার কাজ চলছিল। এদিনের ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা’ হিসেবেই দেখছে প্রশাসন। আইজি-র মতে, এলাকা নিরাপদ করতে গিয়েই জওয়ানরা তাঁদের প্রাণ হারিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্যের দাবি করার পর এই বিস্ফোরণ এক নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল নিরাপত্তা বাহিনীকে। মাওবাদীরা কি তবে এখনও জঙ্গলে মরণ-ফাঁদ সাজিয়ে রেখেছে? প্রশ্ন উঠছে খোদ প্রশাসনের অন্দরেই। এই ঘটনার পর কাঙ্কের ও নারায়ণপুর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। শহিদ জওয়ানদের সম্মানে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।