ভোটের ফলে বিজেপি সামান্য এগোলেই কি চরম পদক্ষেপ? গণনার আগে মমতা-অভিষেকের বিস্ফোরক দাওয়াই! মার খেলে পুরস্কার, বিজেপি জিতলে ‘পুনর্গণনা’! ফল ঘোষণার আগেই রণকৌশল বদলে দিলেন মমতা!

বাংলার মসনদে কে বসছে? উত্তর মিলবে সোমবার। কিন্তু তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে দলের কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে রুদ্ধশ্বাস বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হওয়া এই বৈঠকে একদিকে যেমন জয়ের গ্যারান্টি দিয়েছেন নেত্রী, তেমনই রণক্ষেত্রের মতো মাটি কামড়ে পড়ে থাকার ‘ভোকাল টনিক’ও দিয়েছেন তিনি। বিজেপিকে রুখতে মমতার সাফ কথা— “প্রয়োজনে পুনরায় গণনার দাবি তুলুন।”

বিজেপি জিতলে ছাড় নয়, পুরস্কার মিলবে লড়লে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, তৃণমূল ২০০-র বেশি আসনে জিতে পুনরায় ক্ষমতায় আসছে। তবে ভোট চলাকালীন যারা কেন্দ্রীয় বাহিনী বা বিরোধীদের হাতে ‘মার খেয়েছেন’, তাঁদের উদ্দেশ্যে মমতার বড় ঘোষণা— “দল ক্ষমতায় এলেই এই কর্মীদের বিশেষ পুরস্কৃত করা হবে।” শুধু তাই নয়, গণনার দিন বিজেপি যদি সামান্য ব্যবধানে (২০০-৩০০ ভোটে) জেতার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে, তবে তৎক্ষণাৎ ‘রি-কাউন্টিং’ বা পুনরায় গণনার দাবি জানানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

লো-ভোল্টেজ নয়, নজরে লোডশেডিং গণনা চলাকালীন কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে মমতা বলেন, “১০ সেকেন্ডের জন্য লোডশেডিং হলেও মেশিন বদলে যেতে পারে। তাই আমাদের কর্মীদের ট্রান্সফর্মারের কাছে অতন্দ্র প্রহরায় থাকতে হবে।” ইভিএম-এর তারিখ ও সিল মিলিয়ে না দেখা পর্যন্ত কোনোভাবেই গণনা শুরু করতে না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অভিষেকের ‘ইভিএম থিওরি’ ও ২১৫-র লক্ষ্য মমতার পর কর্মীদের কড়া নির্দেশ দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তৃণমূল এবার ২১৫টি আসনে জিতবে। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বিশেষ টিপস— “ইভিএম খোলার সময় চার্জের দিকে নজর দিন। যদি দেখেন ৭০ শতাংশ চার্জ আছে, তবে বুঝবেন মেশিন নতুন বা কারচুপি হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভিভিপ্যাট (VVPAT) গণনার জন্য সরব হতে হবে।” সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই গণনাকেন্দ্র ত্যাগ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

খাবার ও সতর্কবার্তা বিরোধীদের ওপর আস্থা না রেখে কাউন্টিং এজেন্টদের বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা। ভোর ৫টায় কেন্দ্রে পৌঁছে সামনের সারিতে বসা এবং বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘শেয়ার বাজারের খেলা’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। ৪ মে পর্যন্ত সমস্ত ধমকানি-চমকানি সহ্য করে কেবল জয়ের সার্টিফিকেটের ওপর নজর দিতে বলেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।