নয়ডার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর বড় ঘোষণা! শ্রমিকদের বেতন বাড়লেও কেন কাটছে না আতঙ্ক?

মে দিবসের রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতের শ্রমবাজারে এক অদ্ভুত ও বৈপরীত্যপূর্ণ চিত্র ধরা পড়ল। একদিকে উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় দীর্ঘ আন্দোলনের পর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিতে সিলমোহর দিল যোগী সরকার, অন্যদিকে শহরের অলিগলিতে ডেলিভারি বয় বা গিগ শ্রমিকদের রোজগারে দেখা দিয়েছে চরম হাহাকার। কোথাও জয়ের আনন্দ, আবার কোথাও বেঁচে থাকার লড়াই—সব মিলিয়ে ভারতের অর্থনীতিতে এক বড়সড় অস্থিরতার সংকেত মিলছে।

নয়ডায় বেতন বৃদ্ধি, কিন্তু সংশয় কাটছে না গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল নয়ডার শিল্পাঞ্চল। ১৩ এপ্রিলের সেই হিংসাত্মক আন্দোলনের মুখে পড়ে শেষমেশ পিছু হটতে বাধ্য হয় প্রশাসন। উত্তরপ্রদেশ সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক বেতন ধার্য করা হয়েছে ১৩,৬৯০ টাকা। আধা-দক্ষ ও দক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক যথাক্রমে ১৫,০৫৯ এবং ১৬,৮৬৮ টাকা। তবে সরকারি এই ‘কাগুজে’ ঘোষণায় পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না শ্রমিকরা। তাঁদের বড় অংশের মনে একটাই প্রশ্ন—বেসরকারি কোম্পানিগুলো কি আদৌ এই নিয়ম মেনে বর্ধিত বেতন পকেটে তুলবে? উত্তর মিলবে আগামী মাসেই।

উপার্জনের সংকটে গিগ শ্রমিকরা শিল্পাঞ্চলে যখন ন্যূনতম মজুরির লড়াই চলছে, তখন শহরের গিগ ইকোনমি অর্থাৎ জোম্যাটো, সুইগি বা ব্লিনকিট-এর মতো সংস্থাগুলোতে চলছে রক্তক্ষরণ। পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে ডেলিভারি পার্টনারদের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় বাড়েনি অর্ডারের সংখ্যা। কুইক কমার্সের ক্ষেত্রে ডেলিভারি পার্টনার ১২১% বাড়লেও অর্ডারের হার থমকে আছে ৯৩ শতাংশে।

অর্ডার পিছু আয় এখন মাত্র ১০-১৫ টাকা! তেলেঙ্গানা গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের শুরুতে যেখানে একটি অর্ডারে ৩৪ থেকে ৪২ টাকা মিলত, এখন অনেক এলাকায় তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকায়। অর্থাৎ, আগের মতো সামান্য রোজগার করতেও শ্রমিকদের এখন দ্বিগুণ সময় রাস্তায় পড়ে থাকতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে প্রথাগত শিল্প শ্রমিকরা যখন সংগঠিত হয়ে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছেন, ঠিক তখনই শহরের অসংগঠিত গিগ শ্রমিকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। ভারতের এই টালমাটাল শ্রমবাজার আগামী দিনে দেশের অর্থনীতির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।