‘৭৮ পাবে BJP’, বিরোধী নেতাদের হাতে লেখা কাগজ দেখিয়ে বড় দাবি করলেন কুণাল

বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক নয়া স্নায়ুযুদ্ধ। একদিকে যখন বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিজেপির এক তথাকথিত ‘অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট’ সামনে এনে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, বিজেপি নিজেও জানে যে তারা এই নির্বাচনে ৭৮-এর বেশি আসন পাচ্ছে না।

কুণাল ঘোষের ‘গোপন নথি’ বোমা

শনিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, গেরুয়া শিবিরের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নেই পরাজয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি বলেন, “বিজেপির ছয় জন প্রতিনিধি আসন ধরে ধরে বিশ্লেষণ করেছেন। সেই হিসেবে মেখলিগঞ্জ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের কাটাছেঁড়া করে দেখা গিয়েছে, তৃণমূল ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ফিরছে। আমার হাতে থাকা হিসেব অনুযায়ী, তৃণমূল ২৩০ থেকে ২৫০টি আসন পেতে চলেছে।” তবে এই নথি কার হাতের লেখা বা কোন সংস্থা এই সমীক্ষা করেছে, তা কৌশলগত কারণেই খোলসা করেননি কুণাল। তাঁর কটাক্ষ, “এতদিন যারা হাঁকডাক দিচ্ছিল, তারা এখন বুঝে গিয়েছে কী হতে চলেছে।”

মমতা-অভিষেকের ভার্চুয়াল পেপ টক

এদিন বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ দলের সমস্ত কাউন্টিং এজেন্ট ও প্রার্থীদের নিয়ে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে নেত্রী সাফ জানান, “আমরা ২০০-র বেশি আসনে জিততে চলেছি।” পাশাপাশি বুথফেরত সমীক্ষাকে (Exit Poll) তীব্র আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, শেয়ার বাজারকে চাঙ্গা রাখতেই বিজেপিকে এভাবে এগিয়ে দেখানো হচ্ছে।

কর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস

বৈঠকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের সময় দলীয় কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। তবে কঠিন পরিস্থিতিতেও যারা লড়াই ছাড়েননি, তাঁদের যথাযথ সম্মান ও পুরস্কার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। কাউন্টিং এজেন্টদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে নয়া বিতর্ক

এদিনের বৈঠক থেকে পোস্টাল ব্যালট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বাইরে থেকে ছাপ্পা মারা পোস্টাল ব্যালট আসার আশঙ্কা প্রকাশ করে কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর কড়া নজর রাখছে দল। সব মিলিয়ে, গণনার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ।