সাগরের দখল কার হাতে? মায়ানমার সফরে ভারতের নৌসেনা প্রধান, নেপথ্যে কি চিনকে রোখার ছক?

ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ভারত। চার দিনের সরকারি সফরে মায়ানমার পৌঁছলেন ভারতের নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী। ২ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা।
শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক
মায়ানমার সফরে গিয়ে অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী সে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ জেনারেল ইয়ে উইন উ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেনারেল উ তুন আং-এর সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসবেন। এছাড়াও মায়ানমার নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল তেয়িন উইনের সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকগুলোতে দুই দেশের নৌবাহিনীর বর্তমান কার্যকলাপ পর্যালোচনা করার পাশাপাশি অপারেশনাল স্তরে একে অপরকে সাহায্য করার নতুন পথ খুঁজে বের করা হবে।
সফরের ঠাসা কর্মসূচি
সফরের শুরুতেই মায়ানমারের শহিদ স্মারকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান ভারতের নৌপ্রধান। এরপর তিনি মায়ানমার নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল নেভাল কমান্ড, নেভাল ট্রেনিং কমান্ড এবং ‘নম্বর ১ ফ্লিট’ পরিদর্শন করবেন। মূলত প্রশিক্ষণ আদান-প্রদান এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারত-মায়ানমার নৌ-সম্পর্কের গুরুত্ব
ভারত এবং মায়ানমারের নৌবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিনের পেশাদার সম্পর্ক রয়েছে। ইন্ডিয়া-মায়ানমার নেভাল এক্সারসাইজ (IMNEX) এবং কো-অর্ডিনেটেড পেট্রোল (IMCOR)-এর মতো মহড়াগুলো দুই দেশের জলসীমাকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও হাইড্রোগ্রাফি সার্ভে এবং নিয়মিত পোর্ট ভিজিটের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
এক্স হ্যান্ডেলে বড় বার্তা
নৌসেনা প্রধানের এই সফর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ একটি বিবৃতি দিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। সেখানে বলা হয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সামুদ্রিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মায়ানমারের সঙ্গে ভারতের এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সফরের মাধ্যমে ভারত একদিকে যেমন মায়ানমারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ঝালিয়ে নিচ্ছে, ঠিক তেমনই কৌশলগতভাবে ভারত মহাসাগরে নিজেদের অবস্থান আরও নিশ্ছিদ্র করতে চাইছে। এখন দেখার, চার দিনের এই হাই-ভোল্টেজ সফর শেষে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কী কী নতুন ঘোষণা আসে।