মদ নেই রিয়াদের দোকানে! বিয়ার-ওয়াইনের হাহাকারে ধুন্ধুমার সৌদি আরবে, কেন এই নজিরবিহীন সংকট?

রক্ষণশীলতার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসা আধুনিক সৌদি আরবের একমাত্র সরকারি মদের দোকানে এখন হাহাকার। রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত নামহীন সেই দোকানে ফুরিয়ে এসেছে বিয়ার, ওয়াইন ও টাকিলাসহ প্রায় সব জনপ্রিয় পানীয়। ইরানের সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার অচলাবস্থার কারণে নতুন চালান না আসায় কার্যত খালি পড়ে আছে দোকানের তাকগুলো।

দোকানের বর্তমান চিত্র:
২০২৪ সালে অমুসলিম কূটনীতিক ও ধনকুবের বিদেশিদের জন্য খোলা এই দোকানের অধিকাংশ তাকই এখন শূন্য। যা অবশিষ্ট আছে, সেগুলোর দাম আকাশছোঁয়া অথবা ব্র্যান্ডগুলো মোটেও জনপ্রিয় নয়। জনৈক বিদেশি কূটনীতিকের মতে, দোকানে সাদা ওয়াইন বা বিয়ার খুঁজে পাওয়া এখন ভাগ্যের ব্যাপার। যাও আসছে, তা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য।

কেন এই আকাল?
সরবরাহকারী কর্মচারীদের মতে, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্য দিয়ে এই পণ্যগুলো সৌদিতে পৌঁছায়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘাটতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই দোকানের সামনে বিদেশিদের লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। মদ কেনার জন্য অনেকে দিনের বেলা কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, যা থেকে প্রায়শই কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

বিবর্তনের পথে বাধা:
১৯৫২ সাল থেকে সৌদি আরবে মদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটনকে চাঙ্গা করতে এই দোকানটির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে বিদেশিরা চোরাচালান বা কালোবাজারের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সরকারি এই উদ্যোগ পরিস্থিতি সহজ করেছিল। জেদ্দা ও আরামকো এলাকায় আরও দুটি দোকান খোলার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান সংকটে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে, এই নজিরবিহীন ঘাটতি বা সরবরাহ বিলম্ব নিয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই হাহাকার চলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।