জার্মানি ছাড়ছে ৫০০০ মার্কিন সেনা! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন বাইডেন?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী কয়েক দশক ধরে ইউরোপের মাটিতে মার্কিন সামরিক আধিপত্যের যে ভিত তৈরি হয়েছিল, তাতে এবার বড়সড় বদল আসতে চলেছে। জার্মানি থেকে ৫,০০০ সৈন্য প্রত্যাহারের চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে। পেন্টাগনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক জল্পনা।

ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলা:
জার্মানিতে মার্কিন সেনার উপস্থিতি কেবল আজকের নয়। ১৯৪৫ সালে নাৎসি বাহিনীর পরাজয়ের পর থেকেই সেখানে ঘাঁটি গেড়েছে আমেরিকা। এক সময় ১৬ লক্ষ সৈন্য মোতায়েন থাকলেও সময়ের সাথে সেই সংখ্যা কমতে কমতে ৩ লক্ষের নিচে নেমে আসে। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নকে রুখতে এবং জার্মানিকে শক্তিশালী করতে ন্যাটো গঠনের পর এই সামরিক ঘাঁটিগুলো স্থায়ী রূপ পায়। বর্তমানে ইউরোপের মোট ৬৮,০০০ মার্কিন সেনার মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ প্রায় ৩৬,৪০০ জনই রয়েছে জার্মানিতে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটিগুলো?
জার্মানিতে অবস্থিত ২০ থেকে ৪০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি শুধু ইউরোপের ঢাল নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখার প্রধান কেন্দ্র। ইরাক, আফগানিস্তান এবং সাম্প্রতিক ইরান অভিযানের ক্ষেত্রেও রামস্টাইন বিমান ঘাঁটি ও স্টুটগার্টের আফ্রিকান কমান্ড সেন্টার ছিল আমেরিকার প্রধান রণকৌশলগত বিন্দু।

সৈন্য প্রত্যাহারের প্রভাব:
২০২০ সালেও ১২,০০০ সৈন্য সরানোর একটি প্রস্তাব উঠেছিল, যা পরবর্তীকালে বাতিল করা হয়। তবে এবার ৫,০০০ সৈন্য কমানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ন্যাটোর শক্তি নিয়ে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, জার্মানি থেকে মার্কিন উপস্থিতি কমলে তা ইউরোপের নিরাপত্তায় শূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, ন্যাটোর অভ্যন্তরে নিজেদের খরচ ও দায়বদ্ধতা কমাতেই আমেরিকা এই পথে হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাশিয়ার সাথে বিদ্যমান দ্বন্দ্বে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।