শেয়ার বাজার নয়, সোনা-রুপোতেই কোটি কোটি টাকা ঢালছেন ভারতীয়রা! ২০২৬-এ ভেঙে গেল বিনিয়োগের সব রেকর্ড

ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের পছন্দের মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতের এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ETF) বাজারে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগের জোয়ার এসেছে। জেরোধা ফান্ড হাউসের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অর্থবর্ষে নিট বিনিয়োগের পরিমাণ ১.৮১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা ভারতের আর্থিক ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
অ্যাসোসিয়েশন অফ মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়া (AMFI)-র তথ্য বলছে, এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ ২০২২ অর্থবর্ষের রেকর্ডকে (৮৩,৩৯০ কোটি টাকা) অনায়াসেই ছাপিয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র চার বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
লক্ষ্মীলাভের নেশায় ছুটছে সোনা ও রুপো
রিপোর্টের সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, বর্তমানে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা ইক্যুইটি বা শেয়ার বাজারের তুলনায় কমোডিটি বিশেষ করে সোনা ও রুপোর ওপর বেশি ভরসা রাখছেন। ২০২৬ অর্থবর্ষের মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫৫ শতাংশ (৯৯,২৮০ কোটি টাকা) এসেছে সোনা ও রুপার ইটিএফ থেকে।
গোল্ড ইটিএফ: একাই ৬৮,৮৬৮ কোটি টাকার বিনিয়োগ টেনেছে। গত পাঁচ বছরে মোট যত বিনিয়োগ হয়েছিল, এই এক বছরেই বিনিয়োগ হয়েছে তার দ্বিগুণেরও বেশি।
সিলভার ইটিএফ: ২০২২ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ২০২৬ অর্থবর্ষে এতে ৩০,৪১২ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে।
কেন এই ঝোঁক? বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা
জেরোধা মিউচুয়াল ফান্ডের সিইও বিশাল জৈনের মতে, এটি একটি বড় পরিবর্তন। আগে মানুষ ইটিএফ মানেই ইক্যুইটি বুঝতেন, কিন্তু এখন তাঁরা পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যময় করার জন্য সোনা ও রুপোকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর পেছনে কর সুবিধা বা ‘ট্যাক্স রুলস’-এর বড় ভূমিকা রয়েছে। সোনা ও রুপার ইটিএফ-এর ক্ষেত্রে ১২ মাস পর দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভ কর (LTCG) প্রযোজ্য হয়, যেখানে ভৌত বা ফিজিক্যাল সোনার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ২৪ মাস।
রেকর্ড লেনদেন ও বাজারের অবস্থা
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসটি ইটিএফ বাজারের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনাকে বেছে নিচ্ছেন। প্রতিদিনের গড় লেনদেনের পরিমাণও অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দৈনিক গড় লেনদেন ৪,২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে, যার সিংহভাগই এসেছে কমোডিটি ইটিএফ থেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপার ক্রমবর্ধমান দাম এবং সোনার নিরাপদ অবস্থান ভারতীয়দের এই নতুন ধারার বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। আগামী দিনে এই প্রবণতা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।