“বাংলায় ফের ভোটগ্রহণ!”-কাল কোন ১৫টি বুথে রিপোল? তালিকা দেখে নিন দ্রুত

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ভোট যন্ত্রে কারচুপি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। সেই বিতর্কেই সিলমোহর দিয়ে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার (১ মে) কমিশনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মোট ১৫টি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ বা ‘রিপোলিং’ করা হবে।
কবে এবং কোথায় ভোট? কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামীকাল ২ মে (শনিবার) সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুনর্নির্বাচন চলবে। মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে:
-
মগরাহাট পশ্চিম (১৪২ নম্বর বিধানসভা): এখানে সর্বোচ্চ ১১টি বুথে ভোট নেওয়া হবে। বুথগুলি হলো— উত্তর ইয়ারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ২), নজরা প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১ ও ২), দেউলা প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১), ঘোলা নয়াপাড়া গার্লস হাই মাদ্রাসা (রুম ২), একতারা মালয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১ ও ২), একতারা মালয়া ধোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১) এবং বাহিরপুয়া কুরকুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ১, ২ ও ৩)।
-
ডায়মন্ড হারবার (১৪৩ নম্বর বিধানসভা): এই কেন্দ্রের ৪টি বুথে রিপোল হবে। সেগুলি হলো— বাগদা জুনিয়র হাই স্কুল, চাঁদা প্রাথমিক বিদ্যালয় (রুম ২), হরিদেবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রায়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বিতর্কের মূলে ইভিএম কারচুপি উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক জায়গায় ইভিএমের ওপর সেলোটেপ বা ব্ল্যাকটেপ লাগিয়ে প্রার্থীর নাম ঢেকে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। ফলতার ৩২টি বুথসহ ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাটের বহু আসনে ইভিএম বিকৃতির অভিযোগ জমা পড়েছিল কমিশনে। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এই বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং রাতভর স্ক্রুটিনি শেষে রিপোর্ট জমা দেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফলতা নিয়ে ধোঁয়াশা: যদিও বিজেপি ফলতার প্রতিটি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল এবং পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত ফলতার ৩০টি বুথে রিপোলের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে কমিশনের বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে ফলতা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ফলে ওই কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েই গেল।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। শনিবারের এই পুনর্নির্বাচনে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।