ইভিএমে রহস্যময় টেপ, অন্ধ ওয়েব কাস্টিং! ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাটে ফের ভোট, নিশানায় ফলতাও?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার রেশ কাটতে না কাটতেই বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। কারচুপি ও বুথ দখলের ভূরি ভূরি অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর, শনিবারই রাজ্যের ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের (Re-poll) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ‘হেভিওয়েট’ কেন্দ্রগুলোতে ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এই কড়া সিদ্ধান্ত নিল কমিশন।

কোথায় কোথায় ফের ভোট? কমিশন সূত্রে খবর, মূলত ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫টি বুথে আগামীকাল, শনিবার ফের ভোটগ্রহণ হবে। এছাড়াও ফলতার ১৪৪ নম্বর বুথটি নিয়েও প্রবল টানাপোড়েন চলছে; সেখানেও পুনর্নির্বাচন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আজ সন্ধের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেবে কমিশন।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? দ্বিতীয় দফার ভোটে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জমা পড়েছিল কমিশনের দপ্তরে।

  • ইভিএমে টেপ: বেশ কিছু বুথে ইভিএমের বোতামের ওপর টেপ লাগিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে।

  • অন্ধ ওয়েব কাস্টিং: যে সব বুথে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে, দেখা গিয়েছে সেখানে রহস্যজনকভাবে ওয়েব কাস্টিং বা সিসিটিভি ফুটেজ উধাও।

  • ভয় প্রদর্শন: ভোটারদের বুথে আসতে বাধা দেওয়া এবং ভয় দেখানোর একাধিক ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৩৪ লক্ষ বাড়তি ভোটের রহস্য! এবারের নির্বাচনে সবথেকে বড় চমক হলো ভোটার সংখ্যা। ২০২১ সালের তুলনায় এবার প্রায় ৩৪ লক্ষ বেশি ভোট পড়েছে ইভিএমে। ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ার পরেও কীভাবে ৯৩ শতাংশ রেকর্ড ভোট পড়ল, তা নিয়ে ঘুম উবেছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। ২০২১ সালে তৃণমূল ও বিজেপির ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ৬০ লক্ষ। এবার এই অতিরিক্ত ৩৪ লক্ষ ভোট কোন দিকে গিয়েছে, তার ওপরই নির্ভর করছে নবান্নের চাবিকাঠি।

নিরাপত্তার চাদরে ১৫ বুথ: শনিবারের পুনর্নির্বাচন ঘিরে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন। প্রতিটি বুথে মোতায়েন থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত কোম্পানি। থাকবে কড়া ওয়েব কাস্টিং নজরদারি। সিসিটিভি ক্যামেরার প্রতিটি ফ্রেম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে দিল্লি ও কলকাতার কন্ট্রোল রুম থেকে।

উপসংহার: ভোটের ফলাফল প্রকাশের আগে এই ১৫টি বুথের লড়াই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এখন মান-সম্মানের লড়াই। শনিবারের এই ‘মিনি ভোট’ কি পাল্টে দেবে ২০২৬-এর চূড়ান্ত ফলাফল? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।