ফল প্রকাশের পরই বিজেপিতে বড় ‘ধামাকা’! মোদী-শাহের নিশানায় কি নিজের দলেরই মন্ত্রীরা? শুরু কাউন্টডাউন

আগামী ৪ মে। শুধু চারটি রাজ্য এবং পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নয়, এই দিনটি ভারতীয় জনতা পার্টির অন্দরেও এক বড়সড় পরিবর্তনের সূচনা করতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের খবর, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই জাতীয় এবং রাজ্য—উভয় স্তরেই একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে গেরুয়া শিবির। যার মধ্যে সবথেকে বড় চমক হতে পারে মন্ত্রিসভায় রদবদল এবং সাংগঠনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন।
যোগী সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: বিজেপির পাখির চোখ এখন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মন্ত্রিসভায় বড় মাপের রদবদল ও সম্প্রসারণ হতে পারে। সূত্রের খবর, শূন্যপদগুলো পূরণ করার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীর দপ্তর কেড়ে নিয়ে নতুন মুখ আনা হতে পারে। এই দৌড়ে সবথেকে এগিয়ে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন্দ্র চৌধুরী। জাতিগত ও আঞ্চলিক সমীকরণ মাথায় রেখেই এই নতুন তালিকা তৈরি হচ্ছে।
বিহারে ক্ষমতা ভাগাভাগির নতুন ফর্মুলা: রদবদলের হাওয়া বইছে বিহারেও। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। বিজেপি এবং জেডি(ইউ)-এর মধ্যে নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, উভয় দলই ১৬টি করে মন্ত্রিপদ পেতে পারে। বর্তমানে সম্রাটের হাতে থাকা অতিরিক্ত দপ্তরগুলো বিজেপির নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। অন্যদিকে, জেডি(ইউ)-এর দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা দপ্তরগুলোও পুনর্বণ্টন করা হতে পারে।
জাতীয় স্তরে নীতীন নবিনের মাস্টারপ্ল্যান: শুধু রাজ্য নয়, কেন্দ্রীয় স্তরেও বিজেপি সভাপতি নীতীন নবিন তাঁর নতুন টিম চূড়ান্ত করতে চলেছেন। সূত্রের খবর, এই নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞ প্রবীণদের পাশাপাশি জায়গা পাবেন একঝাঁক তরুণ মুখ। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নতুন এই সাংগঠনিক কাঠামোতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশেরও বেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
মে মাসই কেন গুরুত্বপূর্ণ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মে মাসে গৃহীত এই সিদ্ধান্তগুলো আসলে ২০২৬ এবং তার পরবর্তী নির্বাচনের ব্লু-প্রিন্ট। প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক ভারসাম্যের মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনগুলোতে বিরোধীদের এক চুল জমি না ছাড়ার কৌশলই নিতে চলেছে বিজেপি।
উপসংহার: ৪ মে-র ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে অনেক নেতার ভাগ্য। একদিকে ভোট গণনার উত্তেজনা, অন্যদিকে দলের ভেতরে রদবদলের আতঙ্ক— সব মিলিয়ে মে মাসের শুরুতেই সরগরম পদ্ম শিবির। শেষ পর্যন্ত কার ডানা ছাঁটা হয় আর কার ভাগ্য খোলে, এখন সেটাই দেখার।