দাউদের ডেরায় মোদীর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! শুরু হলো ‘অপারেশন গ্লোবাল হান্ট’, বিদেশ থেকে খাঁচায় বন্দি ডন-ঘনিষ্ঠ

বিদেশের মাটিতে লুকিয়ে থেকে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার দিন এবার শেষ। বিদেশের মাটিতে গা ঢাকা দিয়ে থাকা অপরাধীদের ডেরায় হানা দিতে মোদী সরকার শুরু করেছে এক নজিরবিহীন ও বিধ্বংসী অভিযান— ‘অপারেশন গ্লোবাল হান্ট’ (Operation Global Hunt)। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের ভারতীয় আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাতে এটি এযাবৎকালের সবথেকে বড় পদক্ষেপ।

প্রথম আঘাতেই কুপোকাত ডি-কোম্পানি: এই মেগা অভিযানের শুরুতেই মিলেছে এক বিশাল সাফল্য। আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত সেলিম ডোলা ধরা পড়েছে তুরস্কের মাটিতে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের যৌথ তৎপরতায় তাকে সেখান থেকে পাকড়াও করে সরাসরি ভারতে নিয়ে আসা হয়েছে। ডোলার এই গ্রেফতারিকে ভারতীয় গোয়েন্দাদের জন্য একটি বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তালিকায় ১০০-র বেশি কুখ্যাত নাম: দিল্লি সূত্রে খবর, এই অভিযানের লক্ষ্য কেবল একজন নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আত্মগোপন করে থাকা ১০০-র বেশি কুখ্যাত অপরাধীর একটি ‘হিট লিস্ট’ তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই তালিকায় বড় মাপের আর্থিক তছরুপকারী থেকে শুরু করে মাদক সম্রাট এবং দাগী সন্ত্রাসবাদীদের নাম রয়েছে। এনআইএ (NIA) এবং সিবিআই (CBI) যৌথভাবে এই অপারেশনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে।

বদলে যাওয়া কূটনৈতিক রণকৌশল: সেলিম ডোলার প্রত্যর্পণ অপরাধ জগতের কাছে এক কড়া বার্তা। এক সময় দুবাই বা তুরস্ককে অপরাধীদের জন্য ‘সেফ জোন’ মনে করা হতো। কিন্তু ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং শক্তিশালী বিদেশনীতির কারণে তুরস্কের মতো দেশও এখন অপরাধীদের ধরতে ভারতের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। দাউদের নেটওয়ার্ক এবং মাদক চোরাচালানের বহু গোপন তথ্য এখন ভারতের হাতের মুঠোয় আসতে চলেছে।

শেষ কথা: ভারতের এই ‘গ্লোবাল হান্ট’ আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সেলিম ডোলাকে জেরা করে এবার দাউদ ইব্রাহিম বা অন্য কোনো বড় মাথার খোঁজ মেলে কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে ভারত সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে—আইন ফাঁকি দিয়ে সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ে গেলেও এখন আর নিস্তার নেই। ভারতের হাত এখন অনেক লম্বা!