কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের লটারি! অষ্টম বেতন কমিশনে ২ কোটি ক্ষতিপূরণ ও ৩ গুণ ভাতার দাবি, বদলাচ্ছে পকেটের হাল?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় খবর! বহু প্রতীক্ষিত অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th CPC) এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল। সম্প্রতি দিল্লিতে বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (NC-JCM)। বেতন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে পেনশন পুনর্গঠন— কর্মীদের দেওয়া ১০টি দাবি ঘিরে এখন উত্তাল জাতীয় রাজনীতি।

বেতন ও পদোন্নতিতে বড় বদলের দাবি: কর্মচারীদের পক্ষ থেকে শিব গোপাল মিশ্রের নেতৃত্বে দাবি জানানো হয়েছে যে, ৩০ বছরের দীর্ঘ চাকরির মেয়াদে অন্তত ৫টি পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রতিবার পদোন্নতির সময় বেতনের অতিরিক্ত দুটি ইনক্রিমেন্ট এবং সামগ্রিক বেতন কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

৩ গুণ বাড়ছে ভাতা? সবচেয়ে চমকপ্রদ দাবিটি উঠেছে ভাতাকে কেন্দ্র করে। কর্মচারীরা দাবি করেছেন—

  • বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA), সন্তানদের শিক্ষা ভাতা (CEA) এবং ঝুঁকি ভাতা (Risk Allowance) সরাসরি তিন গুণ বৃদ্ধি করতে হবে।

  • মহার্ঘ ভাতার (DA) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ভাতাগুলো বাড়ানোর একটি স্থায়ী ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

২ কোটির ক্ষতিপূরণ ও ছুটির বিশেষ অধিকার: সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক দাবি তোলা হয়েছে। কর্মরত অবস্থায় কোনো কর্মচারীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া অর্জিত ছুটি (Earned Leave) বাড়িয়ে ৩০০ থেকে ৬০০ দিন করা এবং প্রথমবারের মতো ঋতুকালীন ছুটি (Menstrual Leave) ও পিতৃত্বকালীন ছুটির পরিধি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।

পেনশন ও বোনাসে চমক: পুরানো পেনশন স্কিম (OPS) ফিরিয়ে আনার জোরালো দাবির পাশাপাশি জানানো হয়েছে:

  • বোনাসের ওপর থেকে সব ধরণের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দিতে হবে।

  • মূল বেতন এবং মহার্ঘ ভাতার যোগফলের ওপর ভিত্তি করে বোনাস নির্ধারণ করতে হবে।

  • পেনশনভোগীদের জন্য প্রতি ৫ বছর অন্তর পেনশন সংশোধনের সুবিধা রাখতে হবে।

বাড়ল আবেদনের সময়সীমা: কমিশনের ওয়েবসাইটে কারিগরি ত্রুটির কারণে দাবি ও পরামর্শ জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩০ এপ্রিল থেকে বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। বিচারপতি দেশাই জানিয়েছেন, এটি কেবল আলোচনার শুরু। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পর চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করবে কমিশন।