ইভিএম কারচুপির আশঙ্কায় রণক্ষেত্র কলকাতা! মাঝরাতে ৭ জায়গায় জারি ১৬৩ ধারা, কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে লালবাজার?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতে এখনও কয়েক ঘণ্টা বাকি। কিন্তু তার আগেই তিলোত্তমার বাতাসে বারুদের গন্ধ। ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সুর চড়ানোর পরেই বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। শহরের অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রংরুম এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলল লালবাজার। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জারি করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা (যা আগে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল)।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় যে এলাকাগুলি: কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্ট্রংরুমগুলির ২০০ মিটারের মধ্যে কোনো প্রকার জমায়েত বা বিক্ষোভ প্রদর্শন করা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে—

  • শহিদ ক্ষুদিরাম বসু রোড

  • জাজেস কোর্ট রোড

  • যাদবপুর

  • ডায়মন্ড হারবার রোড

  • লর্ড সিনহা হল

  • বেলতলা রোড (নরেশ মিত্র সরণি)

  • প্রমথেশ বড়ুয়া সরণি

মমতার ‘জীবন-মরণ’ লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি: এই প্রশাসনিক তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে স্ট্রংরুম ঘিরে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক নাটক। গত বৃহস্পতিবার ভবানীপুরের স্ট্রংরুমে গিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা সময় কাটান খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, বিজেপি এবং কমিশন যোগসাজশ করে ইভিএমে কারচুপির ছক কষছে। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সন্দেহ আরও তীব্র হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গণনায় কোনো অনিয়ম দেখলে তিনি ‘জীবন-মরণ’ লড়াইয়ে নামবেন।

শুভেন্দুর পাল্টা কটাক্ষ: অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর এই তৎপরতাকে আমল দিতে নারাজ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেছেন, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা অত্যন্ত মজবুত। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “ভবানীপুরের স্ট্রংরুমে কড়া নজরদারি রয়েছে এবং যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা রুখতে মুখ্যমন্ত্রীকেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

কমিশনের সাফাই: তৃণমূলের তোলা কারচুপির অভিযোগ অবশ্য সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই প্রার্থী ও এজেন্টদের উপস্থিতিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে স্ট্রংরুম সিল করা হয়েছে। ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

উপসংহার: আগামী ৪ মে গণনার দিন পর্যন্ত এই ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকবে। রাজনীতির এই টানটান উত্তেজনায় শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তবে ফল প্রকাশের আগে এই ‘ইভিএম যুদ্ধ’ যে বাংলার রাজনীতিকে চরম উত্তেজনার শিখরে পৌঁছে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।