এক লহমায় সব শেষ! ঝড়ের ঝাপটায় অঙ্কিতার স্বপ্নভঙ্গ, কান্নায় ভেঙে পড়ল গোটা গ্রাম

কালবৈশাখীর এক ঝাপটায় নিভে গেল এক উজ্জ্বল প্রদীপের প্রাণ। টিউশন পড়ে হাসি মুখে বাড়ি ফিরছিল বছর ষোলোর অঙ্কিতা। কিন্তু পথে ওত পেতে ছিল মৃত্যু। প্রচণ্ড ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছের তলায় চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর। শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত বিকেলে? স্থানীয় সূত্রের খবর, অঙ্কিতা প্রতিদিনের মতোই শুক্রবার বিকেলে টিউশন পড়ে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিল। আচমকাই আকাশ কালো করে শুরু হয় কালবৈশাখীর তাণ্ডব। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে রাস্তার ধারের একটি বিশাল গাছ হঠাতই উপড়ে পড়ে অঙ্কিতার ওপর। সাইকেল সমেত গাছের নিচে চাপা পড়ে যায় সে।
হাসপাতালে শেষরক্ষা হলো না: ঘটনাটি দেখা মাত্রই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারের জন্য ছুটে আসেন। গাছ সরিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় অঙ্কিতাকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
শোকস্তব্ধ এলাকা: মেধাবী ছাত্রীর এমন অকাল মৃত্যুতে ডায়মন্ড হারবার জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অঙ্কিতার সহপাঠী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা এই খবর পেয়ে স্তম্ভিত। পরিবারের একমাত্র মেয়ের এমন পরিণতি বিশ্বাস করতে পারছেন না বাবা-মা। তাঁদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের বাতাস।
পুলিশ ইতিমধ্যেই দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঝড়ের সময় কেন রাস্তার ধারের পুরনো গাছগুলি নিয়ে আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশাসনের দিকেও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের একাংশ। একটি সাধারণ প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে একটি পরিবারের সব স্বপ্ন ছারখার করে দিতে পারে, অঙ্কিতার মৃত্যু আরও একবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
২ মিনিট পাঠ • ব্রেকিং নিউজ • ১ মে ২০২৬