বিপন্ন স্যালাম্যান্ডারই এনে দিল সম্মান! আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেরার সেরা দার্জিলিংয়ের গবেষক বরখা

বাঙালির মুকুটে ফের এক অনন্য আন্তর্জাতিক পালক। বিশ্বমঞ্চে বাংলার নাম উজ্জ্বল করলেন উত্তরবঙ্গের পাহাড়-কন্যা বরখা সুব্বা। বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মানজনক ‘হুইটলি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ (Whitley Award), যা বিশ্বজুড়ে ‘গ্রিন অস্কার’ নামে পরিচিত, তা জয় করলেন দার্জিলিংয়ের এই কৃতী গবেষক।
কেন এই বিরল সম্মান? পাহাড়ের কোল থেকে হারিয়ে যেতে বসা রহস্যময় প্রাণী ‘হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার’ (Himalayan Salamander)-কে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই চালাচ্ছেন বরখা। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জলাশয় এবং এই প্রাণীদের প্রজনন স্থানগুলি সংরক্ষণে তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও নিরলস শ্রম আজ বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি পেল। বিশ্বের প্রায় ২৭০ জন দক্ষ গবেষকের মধ্যে থেকে কঠিন লড়াইয়ের পর সেরার সেরা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
লড়াই যখন প্রকৃতি রক্ষার: হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার হলো এমন এক আদিম উভচর প্রাণী, যা এখন শুধুমাত্র হিমালয়ের নির্দিষ্ট কিছু পকেটে পাওয়া যায়। জলাশয় বুজিয়ে ফেলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই প্রাণীরা আজ চরম সংকটে। বরখা শুধুমাত্র গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না থেকে, স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে এই প্রাণীদের বসতি রক্ষার কাজ করেছেন। তাঁর এই ‘কমিউনিটি বেসড’ মডেলই তাঁকে আন্তর্জাতিক জুরিদের নজর কেড়েছে।
পাহাড়ে খুশির হাওয়া: বরখার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা। পাহাড়ের পরিবেশ প্রেমীদের মতে, এই সম্মান শুধু বরখার ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং হিমালয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষার লড়াইয়ে এক নতুন অনুপ্রেরণা। লণ্ডনের রয়্যাল জিওগ্রাফিক সোসাইটিতে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: পুরস্কার জেতার পর বরখা জানিয়েছেন, এই স্বীকৃতির অর্থ শুধু সম্মান নয়, বরং এক বিশাল দায়িত্ব। পুরস্কারের অর্থ দিয়ে তিনি হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার সংরক্ষণের কাজকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চান এবং হিমালয়ের ইকো-সিস্টেম রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে চান।
পাহাড়ের কুয়াশা ঘেরা গ্রাম থেকে লন্ডনের মঞ্চ— বরখার এই সফর আজ প্রতিটি বাঙালির কাছে গর্বের কাহিনী।