বিয়ের ডিজে-র ‘কান ফাটানো’ আওয়াজে হার্ট অ্যাটাক? উত্তরপ্রদেশে মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ হারাল ১৪০টি মুরগি!

বিয়ের আনন্দ আর ডিজে-র ধামাকা যে কারোর জন্য কাল হতে পারে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর জেলার কুড়ওয়ার এলাকার বাসিন্দারা। একটি বিয়ের শোভাযাত্রায় বাজানো উচ্চস্বরের মিউজিক সিস্টেম বা ডিজে-র ধাক্কায় মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ হারাল ১৪০টি মুরগি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। মুরগিগুলোর মৃত্যুর জন্য ডিজে-র তীব্র শব্দকেই দায়ী করে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন পোল্ট্রি খামারের মালিক।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৫শে এপ্রিল রাতে। স্থানীয় সূত্রের খবর, বাবান বিশ্বকর্মা নামে এক ব্যক্তির মেয়ের বিয়ের শোভাযাত্রাটি গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। শোভাযাত্রায় ছিল বিশাল ডিজে বক্স, যাতে বাজছিল কান ফাটানো শব্দে গান।
খামারের মালিক সাবির আলির অভিযোগ, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ যখন মিছিলটি তাঁর পোল্ট্রি ফার্মের সামনে দিয়ে যায়, তখন মিউজিকের তীব্র কম্পনে মুরগিগুলো অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। সাবির আলির দাবি, উচ্চ ডেসিবেলের শব্দ সহ্য করতে না পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পাখিগুলো। কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায়, খামারের ১৪০টি মুরগি নিথর হয়ে পড়ে আছে।
আইনি বিপাকে ডিজে অপারেটর
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখে ভেঙে পড়েন সাবির আলি। তিনি সরাসরি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, ডিজে-র তীব্র শব্দই মুরগিগুলোর মৃত্যুর প্রধান কারণ। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নামে এবং মঙ্গলবার রাতে পার্সিপুরের ডিজে অপারেটর কবি যাদবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে যে:
মিউজিক সিস্টেমটি নির্ধারিত শব্দসীমা (Noise Level) লঙ্ঘন করেছিল কি না।
সত্যিই উচ্চ শব্দের কারণেই মুরগিগুলোর মৃত্যু হয়েছে কি না।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
পশু বিশেষজ্ঞদের মতে, পাখি এবং ছোট প্রাণীদের শ্রবণশক্তি অত্যন্ত সংবেদনশীল। উচ্চ-তীব্রতার শব্দ তরঙ্গ বা তীব্র কম্পন তাদের শরীরে প্রচণ্ড মানসিক চাপের (Stress) সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে এই প্রবল আতঙ্কের কারণে তাদের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বা ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’-এ মৃত্যু হতে পারে।
সুলতানপুরের এই ঘটনায় পোল্ট্রি খামারের মালিক বিয়ের আয়োজক এবং ডিজে-র ওপর সম্পূর্ণ দায় চাপালেও, বিয়ের আয়োজক পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাটি আবারও বিয়ের উৎসবে অনিয়ন্ত্রিত শব্দদূষণের ক্ষতিকারক দিকটিকে সামনে এনে দিয়েছে।