ভোট মিটতেই বেহালায় রণক্ষেত্র! ইভিএম বাঁচাতে গিয়ে রক্ত ঝরল তৃণমূল নেতার, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে কর্মী!

সারাদিন কড়া নিরাপত্তায় ভোট মিটলেও, রাতের অন্ধকারে রক্ত ঝরল বেহালায়। ইভিএম (EVM) লুটের প্রতিবাদ করায় তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের ওপর নারকীয় হামলার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা তথা কাউন্সিলরের স্বামী অঞ্জন দাস। তাঁর মাথা ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি মুখে একাধিক সেলাই পড়েছে বলে খবর। তৃণমূলের এক কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে তড়িঘড়ি এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ইভিএম লুটের ছক? ঠিক কী ঘটেছিল রাতে?
ঘটনার সূত্রপাত ভোট মিটে যাওয়ার পর যখন বুথ থেকে ইভিএম মেশিন বাসে তোলা হচ্ছিল। বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ইভিএম সরানোর সময় অতর্কিতে হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল ইভিএম ‘চুরি’ করা।
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, বিজেপি নেতা ইন্দ্রনীল খাঁ ও মৌনাক চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইভিএম লুটে বাধা দিতে গেলে তৃণমূল নেতা অঞ্জন দাসকে বেধড়ক মারধর করা হয়। রত্না চট্টোপাধ্যায় জানান, “অঞ্জন দাসের মাথা, নাক ও থুতনি ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মুখে ৮টি সেলাই পড়েছে এবং দাঁতও ভেঙে গিয়েছে। এছাড়া আমাদের এক কর্মীকে এমনভাবে পেটানো হয়েছে যে সে এখন ট্রমা কেয়ারে যমে-মানুষে টানাটানি করছে।”
পুলিশি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
এই ঘটনার পর রাতেই পর্ণশ্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সারাদিন ভোট শান্তিপূর্ণ হলেও হার নিশ্চিত জেনেই বিজেপি রাতের অন্ধকারে ইভিএম চুরির মতো মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
কমিশনের কড়াকড়ি বনাম বিক্ষিপ্ত অশান্তি
প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তার কড়াকড়িতে বড় কোনও অশান্তির খবর না মেলায় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। কমিশনকে অনেকেই ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ আখ্যা দিচ্ছিলেন। কিন্তু ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হতেই বেহালা বা জগদ্দলের মতো জায়গা থেকে আসা অশান্তির খবরগুলি আবারও নিরাপত্তার ফাঁকফোকর নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
ইতিমধ্যেই এলাকায় উত্তেজনা কমাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পর্ণশ্রী থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইভিএম মেশিনগুলি নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পরেও কেন এই হামলা, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।