“আমরা তৃণমূল নই!” ভোটের ফল আসার আগেই এজেন্টদের বড় অভয় দিলেন বিমান ঘোষ, আরামবাগে শোরগোল!

বাংলার হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ভোটযুদ্ধ শেষ। এখন নজর ইভিএম-এর দিকে। আগামী ৪ মে প্রকাশিত হবে ফলাফল, আর তার আগেই এক নজিরবিহীন ছবি ধরা পড়ল আরামবাগের পুরশুড়ায়। এজেন্টদের মনোবল বাড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যত অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী তথা আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি বিমান ঘোষ।
“আপনারা নির্ভয়ে আসুন, আমরা সুরক্ষা দেব”
ভোট পরবর্তী হিংসার আশঙ্কায় অনেক সময়ই গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের উপস্থিত হওয়া নিয়ে সংশয় থাকে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিমান ঘোষ সরাসরি দলীয় এবং অন্য কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে কাউন্টিং হলে আসুন। বিজেপি আপনাদের কিছুই করবে না। আমরা তৃণমূল কংগ্রেস নই, আমরা বিজেপি। আমরা পশ্চিমবঙ্গে শান্তি ও পরিবর্তন চাই, মারধর বা পেটাপেটি নয়।”
বিজেপি প্রার্থীর এই বার্তা কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন যে, গণনা শেষে এজেন্টদের সুরক্ষার দায়িত্বও নেবে দল। তিনি বলেন, “আমরাই আপনাদের সুরক্ষা দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেব। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।”
বিজেপি জেতার ৪টি ‘ম্যাজিক ফ্যাক্টর’
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জয়ের দাবি করেন বিমান ঘোষ। তাঁর মতে, এবারের নির্বাচনে চারটি প্রধান কারণ বা ফ্যাক্টর বিজেপিকে ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছে দেবে:
১. কৃষকদের অসন্তোষ: ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অন্নদাতার ক্ষোভ।
২. অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার: বিজেপির প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রতি সাধারণ মানুষের ভরসা।
৩. বেকারত্ব: যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি।
৪. পরিযায়ী শ্রমিক: ভিন রাজ্য থেকে দলে দলে শ্রমিকদের ফিরে আসা এবং তাদের ভোটদান।
তৃণমূলকে বিঁধে কটাক্ষ
এজেন্টদের আস্বস্ত করার পাশাপাশি শাসক দলকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিমানবাবু। তাঁর দাবি, আরামবাগ মহকুমার ৪টি বিধানসভা আসনের বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেস নাকি বুথ এজেন্ট দিতেও হিমশিম খেয়েছে।
এখন দেখার, ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিন বিমান ঘোষের এই ‘সুরক্ষা গ্যারান্টি’ এবং ‘৪ ফ্যাক্টর’ আরামবাগের রাজনৈতিক মানচিত্রে কতটা প্রভাব ফেলে। তবে ভোট পরবর্তী সময়ে প্রার্থীর এই ইতিবাচক ও নির্ভীক বার্তা রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চিত হচ্ছে।