স্বাধীনতার পর এই প্রথম! বাংলায় ভাঙল ভোটের সব রেকর্ড, দ্বিতীয় দফায় ৯১ শতাংশ পেরিয়ে ইতিহাস গড়ল জনতা

বাংলার ভোট মানেই টানটান উত্তেজনা, কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যে অতীতের সমস্ত রেকর্ড চুরমার করে দেবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি কেউ। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন যে পরিসংখ্যান দিল, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য! সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছে প্রায় ৯১.৩ শতাংশ। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলায় এর আগে কখনও এত বিপুল হারে ভোট পড়েনি।

রেকর্ড ভাঙা ভোট: ‘পশ্চিমবঙ্গের গর্ব’

প্রথম দফার ৯৩.১৯ শতাংশের ধারা বজায় রেখে দ্বিতীয় দফাতেও বাংলার মানুষ বুথে বুথে আছড়ে পড়েছেন। এই অভূতপূর্ব সাফল্যে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন:

“প্রথম ও দ্বিতীয়— দুই দফাতেই শতাংশের বিচারে স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ ভোট পড়ল বাংলায়। নির্বাচনের পর্ব, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব।”

কোথায় বেশি, কোথায় কম?

সন্ধ্যা ৬টার পরও বহু বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন থাকায় এই শতাংশ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী:

  • শীর্ষে: গত দফার মতো এবারও ভোটদানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান

  • পিছিয়ে: তুলনামূলকভাবে শতাংশের বিচারে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রে।

কেন এই রেকর্ড ভোটদান?

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে কমিশনের ব্যাপক প্রচার কাজে দিয়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বড় বড় আবাসনের ভেতরে বুথ তৈরি করায় ভোটাররা অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে এসেছেন। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া মোটের ওপর নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলেও দাবি কমিশনের।

হাই-ভোল্টেজ ভাগ্য পরীক্ষা

এদিন মোট ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া কেন্দ্র ছিল ভবানীপুর, যেখানে মুখোমুখি লড়াইয়ে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হেভিওয়েট বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এ ছাড়াও ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর মতো একাধিক মন্ত্রীর পাশাপাশি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, দীপ্সিতা ধর এবং মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মতো বাম তারকাদের ভাগ্যও আজ ইভিএম-এ বন্দি হলো।