৭২ হাজার কোটির প্রকল্পে পরিবেশের বলি? গ্রেট নিকোবর নিয়ে রাহুলের বিস্ফোরক টুইট, কী এই ‘নীল নকশা’?

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের মেগা প্রকল্প ‘গ্রেট নিকোবর’ নিয়ে এবার সরাসরি তোপ দাগলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার দ্বীপপুঞ্জ সফরে গিয়ে তিনি এই প্রকল্পটিকে “উন্নয়নের নামে ধ্বংসলীলার নীল নকশা” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা হবে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় অপরাধ।

কেন সরব রাহুল গান্ধী?

বর্তমানে আন্দামান-নিকোবরে স্বল্পমেয়াদী সফরে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা। দ্বীপপুঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চাক্ষুষ করার পর বুধবার নিজের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে রাহুল লেখেন:

  • পরিবেশ বিপর্যয়: এই প্রকল্পের কারণে ১৬০ বর্গকিলোমিটার প্রাচীন রেনফরেস্ট বা চিরহরিৎ অরণ্য ধ্বংস হয়ে যাবে।

  • আদিবাসীদের উচ্ছেদ: প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দ্বীপে বসবাসকারী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ি কেড়ে নেওয়া হবে এবং তাঁদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে।

  • স্মৃতি বিনাশ: রাহুলের মতে, প্রতিটি গাছে জড়িয়ে থাকা বহু বছরের স্মৃতি ও অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদকে কর্পোরেট স্বার্থে বলি দিচ্ছে কেন্দ্র।

কী এই ‘গ্রেট নিকোবর প্রকল্প’?

কেন্দ্রীয় সরকার এই অঞ্চলের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে প্রায় ৮১,০০০ থেকে ৯২,০০০ কোটি টাকার এক বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের মূল স্তম্ভগুলি হলো: ১. একটি আন্তর্জাতিক কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর। ২. নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ৩. বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ৪. একটি পরিকল্পিত আধুনিক গ্রিনফিল্ড শহর।

কেন্দ্রের যুক্তি ও সামরিক গুরুত্ব

ভারত সরকারের দাবি, মালাক্কা প্রণালীর অত্যন্ত কাছে অবস্থিত হওয়ায় এই প্রকল্প বাণিজ্যিক ও সামরিক উভয় দিক থেকেই ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করবে এবং আন্দামানকে একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করবে। ইতিধ্যেই জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT) এই প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিয়েছে।

কংগ্রেসের অবস্থান: শুধু রাহুল নন, এর আগে সোনিয়া গান্ধীও এই প্রকল্পের কড়া সমালোচনা করে কেন্দ্রকে পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিলেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, উন্নয়নের দোহাই দিয়ে সরকার দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

একের পর এক জনজাতি ও পরিবেশ বাঁচানোর দাবিতে রাহুল গান্ধীর এই আক্রমণ কেন্দ্রের ওপর কতটা চাপ তৈরি করে, সেটাই এখন দেখার।