ফুটবল মাঠে মুখ ঢাকলেই সোজা লাল কার্ড! ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফিফার তুঘলকি নিয়ম, মাথায় হাত তারকাদের?

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই ফুটবল মাঠে শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা ফেরাতে একগুচ্ছ নজিরবিহীন নিয়ম ঘোষণা করল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA)। বর্ণবিদ্বেষ রুখতে এবং খেলার গতি বাড়াতে ফিফার এই নতুন ‘অস্ত্র’ ফুটবলারদের জন্য যেমন আতঙ্কের, দর্শকদের জন্য তেমনই রোমাঞ্চকর।
মুখ ঢাকলেই লাল কার্ড! কেন এই কড়াকড়ি?
মাঠে তর্কাতর্কির সময় অনেক সময় ফুটবলাররা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বিপক্ষকে গালাগাল বা বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করেন। এর ফলে লিপ-রিডিং বা VAR প্রযুক্তি দিয়েও অপরাধ ধরা সম্ভব হয় না।
-
সিদ্ধান্ত: এবার থেকে কোনো ফুটবলার যদি হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলেন বা অঙ্গভঙ্গি করেন, তবে রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন। রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সাথে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বর্ণবিদ্বেষী ঘটনাগুলোর পরেই এই কঠোর অবস্থান নিল ফিফা।
হলুদ কার্ডে বড় স্বস্তি: সেমিফাইনাল-ফাইনাল নিয়ে নতুন চমক
এবার বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বেড়ে হচ্ছে ৪৮। কোনো বড় তারকা যাতে কার্ডের গেরোয় পড়ে ফাইনালের মতো বড় ম্যাচ মিস না করেন, তা নিশ্চিত করতে হলুদ কার্ডের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে: ১. গ্রুপ পর্ব শেষ হলেই ফুটবলারদের আগের সব হলুদ কার্ড বাতিল হয়ে যাবে। ২. কোয়ার্টার ফাইনাল শেষেও কার্ডের হিসেব মুছে দেওয়া হবে (Reset)। ৩. ফলে সেমিফাইনালে হলুদ কার্ড দেখলেও ফাইনালে নামতে কোনো বাধা থাকবে না। তবে সেমিফাইনালে লাল কার্ড দেখলে ফাইনাল থেকে ছিটকে যেতেই হবে।
১০ সেকেন্ডের ডেডলাইন: সময় নষ্ট রুখতে বিশেষ কায়দা
ম্যাচের গতি বাড়াতে ফিফা এখন ঘড়ি ধরে খেলা চালাবে:
-
১০ সেকেন্ডে বিদায়: পরিবর্ত খেলোয়াড় বা সাবস্টিটিউট হিসেবে মাঠ ছাড়ার সময় কোনো ফুটবলার ১০ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে, সংশ্লিষ্ট দল পরবর্তী এক মিনিটের জন্য ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হবে।
-
ভিস্যুয়াল কাউন্টডাউন: থ্রো-ইন এবং গোল কিকের সময় জায়ান্ট স্ক্রিনে কাউন্টডাউন চলবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বল প্লে-তে না ফিরলে রেফারি কড়া ব্যবস্থা নেবেন।
অন্যান্য নিয়ম এক নজরে:
-
রেফারিকে সম্মান: রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কোনো ফুটবলার মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে সরাসরি বহিষ্কার বা লাল কার্ড দেখানো হবে।
-
স্বচ্ছতা: আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর বিশ্বকাপে মাঠের প্রতিটি কোণ থাকবে ক্যামেরার নজরদারিতে।
ফিফার মুখপাত্রের বার্তা: “মাঠের স্বচ্ছতা এবং খেলার মান বাড়াতে এই পরিবর্তনগুলি জরুরি ছিল। ফুটবলারদের আচার-আচরণ এবার থেকে আতশ কাঁচের নিচে থাকবে।”