রাতেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা! ভোটের মুখে চরম বিপাকে ‘সিংহম’ আইপিএস অজয় পাল শর্মা?

বাংলার দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এক ‘সিংহম’ অফিসার। রাজ্য পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে (IPS Ajay Pal Sharma) অবিলম্বে পদ থেকে সরানোর দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো মামলা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এক তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে সরাসরি ‘সতর্ক’ করার ভিডিও ভাইরাল হতেই এই সংঘাত চরম আকার নিয়েছে।

কেন সরানোর দাবি?

গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এই আইপিএস অফিসার।

  • ফলতার ঘটনা: সোমবার ফলতার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে পৌঁছে যান অজয় পাল শর্মা। প্রার্থীর পরিবারকে সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, ভোটারদের যেন কোনোভাবেই ধমক না দেওয়া হয়।

  • ক্ষমতার অপব্যবহার: মামলাকারীদের অভিযোগ, ওই অফিসার নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছেন। এই মর্মে মঙ্গলবার গভীর রাতেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়।

হাইকোর্টে মেলেনি স্বস্তি

সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টেও উঠেছিল। তবে সেখানে বড়সড় ধাক্কা খেতে হয় মামলাকারীদের। ১. আদালতের অবস্থান: বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোট চলাকালীন নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো আধিকারিকের কাজে আদালত আপাতত হস্তক্ষেপ করবে না। ২. প্রধান বিচারপতিকে ইমেল: হাইকোর্টে আর্জি খারিজ হওয়ার পর দ্রুত শুনানির দাবিতে প্রধান বিচারপতিকে ইমেল করেন আইনজীবীরা। কিন্তু শেষ রক্ষা না হওয়ায় রাতেই দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় এক পক্ষ।

কে এই অজয় পাল শর্মা?

উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসার তাঁর কড়া মেজাজ এবং এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট হিসেবে পরিচিতির কারণে ‘সিংহম’ নামে জনপ্রিয়। পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে আসার পর থেকেই তিনি শাসক শিবিরের টার্গেটে রয়েছেন। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর খানের মতো দাপুটে নেতার বাড়িতে গিয়ে তাঁর কড়া বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

জাহাঙ্গীর খানের প্রতিক্রিয়া: পুলিশি হুঁশিয়ারির মুখে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান পাল্টা জানিয়েছেন, তিনি ভয় পাওয়ার পাত্র নন। ভয় দেখিয়ে ভোট আটকানো যাবে না।

আজ দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।