আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম, বড়সড় সংকটে এয়ার ইন্ডিয়া থেকে ইন্ডিগো! টিকিটের দাম বাড়া কি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা?

ভারতের আকাশপথে কি এবার বড়সড় দুর্যোগ ঘনিয়ে আসছে? যে কোনো সময় অচল হয়ে যেতে পারে দেশের বিমান পরিষেবা। সম্প্রতি এই চরম আশঙ্কার কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রককে চিঠি দিয়েছে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স (FIA)। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেটের মতো বড় সংস্থাগুলোর এই চিঠিতে কার্যত বিপদের লাল সংকেত দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন এই চরম সংকট?

মূল সমস্যার মূলে রয়েছে বিমানের জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি।

  • রেকর্ড দাম: আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে বর্তমানে এটিএফ-এর দাম প্রতি কিলোলিটারে ২ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

  • খরচের বোঝা: আগে একটি বিমান সংস্থার মোট খরচের ৩০-৪০ শতাংশ ব্যয় হতো জ্বালানিতে। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫-৬০ শতাংশে

বিপদ কোথায়?

এফআইএ (FIA) জানিয়েছে, জ্বালানির এই অগ্নিমূল্যের কারণে অনেক রুটই এখন ‘অলাভজনক’ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক রুটে পরিষেবা চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘ সময় এই পরিস্থিতি চললে বিমান সংস্থাগুলো বাধ্য হয়ে: ১. ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দেবে। ২. অনেক রুট পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেবে। ৩. টিকিটের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেবে।

কেন্দ্রের কাছে বিমান সংস্থাগুলোর দাবি

পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংস্থাগুলো। তাদের প্রধান দাবিগুলি হলো:

  • এটিএফ-এর ওপর থাকা ১১ শতাংশ এক্সসাইজ ডিউটি অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।

  • রাজ্য স্তরে ভ্যাট (VAT) কমাতে হবে, যা বর্তমানে কোনো কোনো রাজ্যে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত।

  • জ্বালানির দাম নির্ধারণে একটি স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

কেন কমছে না তেলের দাম?

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম মাঝে মধ্যে কমলেও, ভারতে এটিএফ-এর দাম কমছে না। এর পেছনে রয়েছে রিফাইনিং মার্জিন বা ‘ক্র্যাক স্প্রেড’-এর অস্থিরতা। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারকে তপ্ত করে রেখেছে।