বিকেল হতেই কি পাল্টাবে সমীকরণ? দুপুর ৩টের ভোটে শীর্ষে পূর্ব বর্ধমান, সবথেকে পিছিয়ে মমতার খাসতালুক!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার লড়াই এখন তুঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলাজুড়ে চলছে ভোটগ্রহণ। বুধবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোটদানের হারের নিরিখে গ্রামের উদ্দীপনা শহরকে ছাপিয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, দুপুর ৩টে পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পূর্ব বর্ধমানে (৮৩.১১%) এবং সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে দক্ষিণ কলকাতায় (৭৫.৩৮%)।
দুপুর ৩টে পর্যন্ত ভোটদানের চিত্র: কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় দুপুর ৩টে পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে রাজ্যে ভোট পড়েছে প্রায় ৭৮.৬৮ শতাংশ। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানগুলো একনজরে দেখে নিন:
-
পূর্ব বর্ধমান: ৮৩.১১% (শীর্ষে)
-
হুগলি: ৮০.৭৭%
-
নদীয়া: ৭৯.৭৯%
-
উত্তর ২৪ পরগনা: ৭৮.১০%
-
হাওড়া: ৮৯.৪৪% (দ্রুত বাড়ছে)
-
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৭৬.৭৫%
-
কলকাতা উত্তর: ৭৮.০০%
-
কলকাতা দক্ষিণ: ৭৫.৩৮% (সবচেয়ে কম)
কেন এই ব্যবধান? রাজনৈতিক মহলের মতে, গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সকালেই লাইনে দাঁড়ানোর প্রবণতা বেশি থাকে, যার প্রতিফলন ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতায় ভোটদানের গতি বরাবরই একটু ধীর। তবে ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে বিকেলের দিকে ভোটারদের লাইন বাড়ে কিনা, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
অশান্তির মেঘ ও মোতায়েন বাহিনী: ভোটদানের এই হারের মধ্যেই বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর মিলেছে ফলতা ও ভবানীপুরে। ফলতায় ইভিএম কারচুপির অভিযোগে কমিশন কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বেশ কিছু বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী সক্রিয় হয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে।
উপসংহার: বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটের হার আরও বাড়বে বলেই মনে করছে কমিশন। তবে গ্রামীণ বনাম শহুরে ভোটদানের এই ফারাক শেষ পর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।