২০৫০ সালের মধ্যে ৭০০% বাড়বে তাপপ্রবাহ! বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে ‘নীরব ঘাতকের’ হদিস, দহনে পুড়বে এশিয়া?

এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকেই আকাশ থেকে ঝরছে আগুন। দহন জ্বালায় হাঁসফাঁস করছে দক্ষিণবঙ্গ সহ গোটা দেশ। আবহাওয়া দপ্তরের আশঙ্কা, এবার গরমের সমস্ত পুরনো রেকর্ড ভেঙে চুরমার হতে পারে। তবে কেবল বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ নিয়েও এক হাড়হিম করা তথ্য সামনে এনেছে বিশ্বব্যাংক।

২০৫০ সালের মধ্যে বাড়বে ৭০০% বিপদ!
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক ‘হ্যান্ডবুক’ অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের তীব্রতা এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে। এই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার হবে এশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলো। গবেষণার দাবি, আগামী তিন দশকে চরম তাপপ্রবাহের কবলে পড়া দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় ৭০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা: ‘নীরব ঘাতক’ তাপপ্রবাহ
বিশ্বব্যাংক এই চরম দাবদাহকে ‘নীরব ঘাতক’ বলে অভিহিত করেছে। এটি কেবল জনস্বাস্থ্য নয়, বিশ্বের অর্থনীতিকেও পঙ্গু করে দিতে পারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জিডিপি (GDP) ১.৪% থেকে ১.৮% পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।

শহর কেন জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড?
শহরগুলোতে অত্যধিক কংক্রিটের দালান এবং গাছপালার অভাবে তাপমাত্রা গ্রামের তুলনায় গড়ে ৩-৪ ডিগ্রি বেশি থাকে। খনিজের যথেচ্ছ ব্যবহার ও সবুজের অভাবে আধুনিক শহরগুলো ধীরে ধীরে এক একটি জ্বলন্ত উনুনে পরিণত হচ্ছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

বাঁচার উপায় কী? বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ:
আগামী দিনে বেঁচে থাকার লড়াই জেতার জন্য বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশবিদরা কয়েকটি কার্যকরী পথ বাতলেছেন:

শীতল ছাদ (Cool Roof): বাড়ির ছাদে সাদা রং বা রিফ্লেক্টিভ কোটিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা অন্তত ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি কমানো সম্ভব।

সবুজায়ন: বাড়ির চারপাশে গাছ লাগানো এবং ছোট ছোট কৃত্রিম বন (Mini Forests) তৈরি করা জরুরি। যা প্রাকৃতিক ছায়া ও শীতলতা বজায় রাখবে।

নির্মাণ কৌশলে বদল: কংক্রিটের বদলে আধুনিক এবং তাপ নিরোধক নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে।