বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৫ বছর লিভ-ইন, তারপরই বিচ্ছেদ! ধর্ষণ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিরাট পর্যবেক্ষণ!

লিভ-ইন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং আইনি নিশ্চয়তা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দীর্ঘ ১৫ বছর একত্রবাস করার পর সঙ্গী ছেড়ে চলে যাওয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক মহিলা। সেই মামলাতেই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানাল—লিভ-ইন সম্পর্কের অন্যতম ঝুঁকিই হলো আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়া যে কোনো সময়ে সঙ্গীর বেরিয়ে যাওয়া। একে সরাসরি ‘অপরাধ’ বা ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা কঠিন।

মামলার প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন: বিচারপতি বিভি নাগারত্না এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চে সোমবার এই মামলার শুনানি হয়। মামলাকারী মহিলার দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই ব্যক্তি এক যুগেরও বেশি সময় তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক রেখেছেন। তাঁদের ৭ বছরের একটি সন্তানও আছে। কিন্তু সম্প্রতি ওই ব্যক্তি তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিনি ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি নাগারত্না প্রশ্ন করেন:

“যে সম্পর্ক দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে চলল, সেখানে হঠাৎ যৌন নির্যাতনের প্রশ্ন উঠছে কী করে? লিভ-ইন সম্পর্কে কোনো আইনি বন্ধন না থাকায় যে কেউ বেরিয়ে যেতে পারে—এটাই এই সম্পর্কের ঝুঁকি। একে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।”

গোপন রাখা হয়েছিল প্রথম বিয়ের কথা? মহিলার আইনজীবীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন এবং সেই তথ্য গোপন করে এই মহিলার সঙ্গে লিভ-ইন শুরু করেন। এর জবাবে আদালত জানায়, যদি ওই ব্যক্তি বিবাহিত হতেন তবে মহিলা দ্বিতীয় বিবাহের অধিকার বা খোরপোশ নিয়ে মামলা করতে পারতেন। কিন্তু সরাসরি ধর্ষণের মামলা এখানে কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ।

আদালতের সমাধান সূত্র: সুপ্রিম কোর্ট মনে করে, অভিযুক্তকে জেলে পাঠিয়ে মহিলার কোনো লাভ হবে না। বরং দীর্ঘ সম্পর্কের ফলস্বরূপ যে সন্তান জন্মেছে, তার ভবিষ্যতের কথা ভাবা উচিত। আদালত পরামর্শ দিয়েছে:

  • সন্তানের ভরণপোষণের জন্য খোরপোশ দাবি করতে পারেন মহিলা।

  • জেলে পাঠানোর জেদ না করে উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে মধ্যস্থতায় আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।