১৪২ আসনে মেগা ফাইট! দক্ষিণবঙ্গের ‘গড়’ কি বাঁচাতে পারবে তৃণমূল? কী বলছে বিজেপির অন্দরমহলের সমীক্ষা?

প্রথম দফার ১৫২ আসনের পর এবার মহাযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্ব। বুধবার পশ্চিমবঙ্গের ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে কলকাতা, কিংবা দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে হুগলি—এই প্রতিটি জেলাই তৃণমূলের রাজনৈতিক শক্তির পিভট পয়েন্ট। প্রশ্ন একটাই, ঘাসফুলের এই দুর্গে পদ্ম শিবির কতটা ফাটল ধরাতে পারবে?

বিজেপির টার্গেট ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণ

প্রথম দফায় ১৫২টির মধ্যে ১১০-১২০টি আসন পাওয়ার দাবি করেছিলেন বিজেপি নেতারা। তবে দক্ষিণবঙ্গের এই ১৪২টি আসন সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ।

  • ২০২১-এর প্রেক্ষাপট: গত বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলাগুলি থেকে বিজেপি ১৮টি আসন পেয়েছিল। যদিও উপনির্বাচন ও দলবদলের পর সেই সংখ্যা বর্তমানে ১৫-তে দাঁড়িয়েছে।

  • বিজেপি সূত্রের দাবি: দলের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, এবার দক্ষিণবঙ্গে গতবারের চেয়ে ভালো ফলের আশা করছে তারা। কলকাতায় ২-৩টি আসন পেয়ে খাতা খোলার স্বপ্ন দেখছে গেরুয়া শিবির। পাশাপাশি বাকি জেলাগুলি থেকে ১৮-২০টি আসন পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের অজেয় দুর্গ বনাম বিজেপির উত্থান

কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়া—বাম আমল থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তির উৎস। ২০১১-র পর এই আধিপত্য আরও বেড়েছে।

  • কলকাতার ফ্যাক্টর: গতবার কলকাতার ১১-০ স্কোর তৃণমূলকে বাড়তি অক্সিজেন দিয়েছিল। তবে এবার বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সরাসরি টক্কর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

  • অমিত শাহের ইঙ্গিত: সরাসরি কোনও সংখ্যাতত্ত্ব না দিলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির আসন সংখ্যা চমকপ্রদভাবে বাড়তে চলেছে।

এক নজরে দ্বিতীয় দফার জেলাভিত্তিক লড়াই:

  • কলকাতা: ১১টি আসন (তৃণমূলের দাপট বনাম বিজেপির খাতা খোলার লড়াই)।

  • নদিয়া: ১৭টি আসন (মতুয়া ভোট ও রানাঘাট-কৃষ্ণনগর বেল্টে বিজেপির শক্তি পরীক্ষার জায়গা)।

  • দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়া: এখানে তৃণমূলের জনভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী, যা ভাঙা বিজেপির জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

৪ মে-র অপেক্ষা

নবান্নের চাবিকাঠি কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে এই দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসন। বাম-কংগ্রেস জোট কি ভোট কাটবে নাকি দ্বিমুখী লড়াই হবে—সব উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে ফলপ্রকাশের দিন।