সন্দেশখালি থেকে ভবানীপুর—শেষ দফায় নজরকাড়া হাইভোল্টেজ লড়াই! কে হাসবে শেষ হাসি?

দীর্ঘ প্রচার পর্বের অবসান। রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত দফার হাইভোল্টেজ লড়াই। ৭টি জেলার মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে বুধবার। একদিকে তৃণমূলের গড় রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে চব্বিশের লোকসভা ভোটের ট্রেন্ড ধরে রেখে বিজেপির মাটি কামড়ে পড়ে থাকা— সব মিলিয়ে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি।
এক নজরে দেখে নিন দ্বিতীয় দফার রণক্ষেত্র ও গত নির্বাচনের পরিসংখ্যান:
১. কলকাতা (১১টি আসন): দুর্গ কি অটুট থাকবে?
কলকাতার ১১টি আসনেই গতবার সবুজ আবির উড়েছিল। তবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর ও জোড়াসাঁকো আসনে বিজেপি লিড নিয়ে শাসক শিবিরকে চিন্তায় ফেলেছিল।
-
নজরে: ভবানীপুর (মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র), রাসবিহারী ও মানিকতলা।
২. উত্তর ২৪ পরগণা (৩৩টি আসন): সন্দেশখালি ফ্যাক্টর
এই জেলার ৩৩টি আসনের মধ্যে গতবার তৃণমূল ২৮টিতে জিতেছিল। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে মতুয়া বেল্ট এবং সন্দেশখালি, ভাটপাড়া, বিধাননগর-সহ ৮টি আসনে বিজেপি লিড পাওয়ায় এবার লড়াই কাঁটায় কাঁটায়।
-
নজরে: সন্দেশখালি, ব্যারাকপুর, রাজারহাট-গোপালপুর ও কামারহাটি।
৩. দক্ষিণ ২৪ পরগণা (৩১টি আসন): তৃণমূলের পোক্ত ঘাঁটি
গত বিধানসভা ও লোকসভা— দুই ক্ষেত্রেই এখানে তৃণমূলের দাপট ছিল একচ্ছত্র। একমাত্র ভাঙড় আসনে গতবার আইএসএফ (ISF) জয়ী হয়ে চমক দিয়েছিল। এবারও এখানে বিরোধী জোট তৃণমূলকে কতটা চাপে ফেলতে পারে, সেটাই দেখার।
-
নজরে: যাদবপুর, টালিগঞ্জ ও ডায়মন্ড হারবার।
৪. হাওড়া (১৬টি আসন) ও পূর্ব বর্ধমান (১৬টি আসন): নিরঙ্কুশ আধিপত্য
এই দুই জেলাতেই গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে ১০০ শতাংশ সাফল্য ছিল তৃণমূলের। বিরোধী পক্ষ এখানে দাঁত ফোটাতে মরিয়া।
-
নজরে: শিবপুর, বালি, কাটোয়া ও মেমারি।
৫. হুগলি (১৮টি আসন): বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
২১-এর নির্বাচনে তৃণমূল ১৪টি আসন পেলেও চব্বিশের লোকসভায় চুঁচুড়া, বলাগড়, সপ্তগ্রাম-সহ ৬টি বিধানসভায় বিজেপি এগিয়ে ছিল। ফলে সিঙ্গুর-চুঁচুড়া বেল্টে এবার জোরদার লড়াই প্রত্যাশিত।
-
নজরে: সিঙ্গুর, চন্দননগর ও তারকেশ্বর।
৬. নদিয়া (১৭টি আসন): গেরুয়া শিবিরের তুরুপের তাস
গতবার এখানে লড়াই ছিল সমানে সমানে (বিজেপি ৯, তৃণমূল ৮)। চব্বিশের লোকসভা ভোটের হিসেব অনুযায়ী, কৃষ্ণনগর উত্তর, শান্তিপুর, রানাঘাট-সহ ১১টি আসনেই বিজেপি এগিয়ে। এই জেলা তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে চর্চা।
-
নজরে: কৃষ্ণনগর উত্তর ও দক্ষিণ, শান্তিপুর।
সম্পাদকের কলম: দ্বিতীয় দফার এই ১৪২টি আসনই নির্ধারণ করবে নবান্নের পরবর্তী দখলদার কে। একদিকে যখন গ্রাম বাংলার উন্নয়ন বনাম দুর্নীতির ইস্যু, অন্যদিকে মেরুকরণ ও কর্মসংস্থানের দাবি— সব মিলিয়ে জনগণের রায় কার দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।