‘বিহারী হওয়াই কি এখন দেশদ্রোহিতা?’ দিল্লিতে ডেলিভারি বয় খুনের ঘটনায় মোদী-নীতীশকে তুলোধনা তেজস্বী যাদবের

দিল্লির রাস্তায় খাগারিয়ার ২৩ বছর বয়সী জংশন ডেলিভারি বয় পাণ্ডব কুমারের রক্তপাত এখন বিহার বনাম কেন্দ্রের এক বড় লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি তোপ দেগেছেন বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। তাঁর দাবি, বর্তমানে বিজেপি শাসিত ভারতে ‘বিহারী হওয়াটাই’ যেন সবথেকে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তেজস্বী যাদবের বিস্ফোরক পোস্ট
মঙ্গলবার (২৮শে এপ্রিল) তেজস্বী যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিহারের এনডিএ জোটকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, “বিজেপি সরকারের অধীনে ‘বিহারী হওয়া’ এখন দেশদ্রোহিতার সমান। নয়াদিল্লিতে পাণ্ডব কুমারকে শুধুমাত্র বিহারী হওয়ার কারণে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তার বন্ধু কৃষ্ণ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। বিজেপি এখন বিহারীদের জন্য অভিশাপ।”

চৌকিদারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
তেজস্বী প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে। তাঁর কথায়, দিল্লিতে কাউন্সিলর থেকে শুরু করে সাংসদ, এলজি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রী—সকলেই বিজেপির। বিহারেও নীতীশ-বিজেপি জোট সরকার। তা সত্ত্বেও কেন একজন শ্রমজীবী বিহারীকে খোদ রাজধানী শহরে পুলিশকর্মীর হাতে প্রাণ দিতে হলো? তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন, “বিজেপির কোনো নেতার কি সাহস আছে ওই খুনি পুলিশকর্মীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার?”

কেন ভিনরাজ্যে প্রাণ হারাচ্ছে বিহারীরা?
তেজস্বী যাদব সরাসরি নীতীশ কুমারকে আক্রমণ করে বলেন, গত ২১ বছরের ভ্রান্ত নীতির কারণেই আজ বিহারের মানুষকে পেটের তাগিদে বাইরে যেতে হচ্ছে। আর সেখানে গিয়ে তাঁরা সম্মান তো পাচ্ছেনই না, উল্টে সন্দেহ, ঘৃণা ও হীনম্মন্যতার শিকার হচ্ছেন। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের একজন হেড কনস্টেবল মদ্যপ অবস্থায় কেন গুলি চালালেন, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নীরবতাকেও ধিক্কার জানিয়েছেন তিনি।

ঠিক কী ঘটেছিল?
শনিবার রাতে দিল্লির জাফরকালান থানার অন্তর্গত রাওয়াত গ্রামে ঘটেছিল এই শিউরে ওঠা ঘটনা। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের হেড কনস্টেবল নীরজ মদ্যপ অবস্থায় ২৩ বছর বয়সী ডেলিভারি বয় পাণ্ডব কুমারকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পাণ্ডবের। তাঁর বন্ধু কৃষ্ণ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আরজেডির দাবি
আরজেডি নেতা অবিলম্বে দোষী পুলিশকর্মীর সর্বোচ্চ শাস্তি এবং নিহত পাণ্ডবের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিহারের মানুষের সম্মানের ওপর এই আঘাত তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। এই ঘটনার পর দিল্লির আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি বিহারের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।