বিয়ের সকালে উধাও বর! ওদিকে অন্য কারো সঙ্গে মালাবদল কনের, মুজাফফরপুরের এই কাণ্ড দেখে থ নেটিজেনরা

বিহারের মুজাফফরপুর জেলার হামিদপুর গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয়েছে এক রহস্যময় নাটক। যে বাড়িতে উৎসবের শোরগোল ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্নার রোল। বিয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে হবু বর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর, কনেপক্ষ বিন্দুমাত্র অপেক্ষা না করে অন্য একজনের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেওয়ায় দানা বেঁধেছে রহস্য।

ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার নাম করে নিখোঁজ
২৪ বছর বয়সী জিতেন্দ্র কুমার হরিয়ানার একটি কারখানায় কাজ করতেন। বিয়ের ঠিক আগে ২৫শে এপ্রিল ভোরে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ পরিবারকে ফোন করে জানান যে তিনি বাজারে আছেন এবং বোচাহানের একটি ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে দ্রুত ফিরছেন। কিন্তু এরপরই তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান।

হবু ভাবির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
ঘটনাটি নাটকীয় মোড় নেয় যখন জিতেন্দ্রর বোন গুড়িয়া কুমারী কনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। গুড়িয়া বলেন, “মেয়েটি আমার ভাইয়ের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলত। সে কিছুদিন আগেই জানিয়েছিল যে সে এই বিয়েতে রাজি নয় এবং সময় চায়। আমাদের দৃঢ় সন্দেহ, সে-ই আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গায়েব করার ষড়যন্ত্র করেছে।”

কনের পরিবারের রহস্যময় তাড়াহুড়ো
এদিকে বরের পরিবার যখন পাগলের মতো ছেলেকে খুঁজছে, তখন কনের পরিবার এক মুহূর্তও নষ্ট করেনি। বরের বাড়িতে প্রীতিভোজের আয়োজন বাতিল করে দিয়ে কনের পরিবার তড়িঘড়ি করে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে তাঁর বিয়ের ব্যবস্থা করে এবং সেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। বরের খোঁজ না পাওয়ার আগেই কনের এই দ্বিতীয় বিয়ে বরের বাড়ির লোকজনের সন্দেহকে আরও উসকে দিয়েছে।

তদন্তে পুলিশ: ষড়যন্ত্র নাকি পলায়ন?
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণের মামলা দায়ের করেছে গারহান থানার পুলিশ। জিতেন্দ্রর কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) এবং মোবাইলের লাস্ট লোকেশন ট্র্যাক করার কাজ চলছে।

পুলিশের প্রশ্ন: জিতেন্দ্র কি নিজে থেকে বিয়ে এড়াতে পালিয়েছেন, নাকি কোনো বড় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন?

রহস্য: কেন কনের পরিবার বরের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত অন্য বিয়ে দিয়ে দিল?

বর্তমানে গোটা এলাকায় এই ঘটনা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। সত্য উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ এখন মোবাইলের কল রেকর্ড এবং লোকেশন ট্রেসিং-এর ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।