যে তথ্য দিতে পারেনি ভারত সরকার, তা দিয়ে দিল বিজেপি? নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে পোস্টার ঘিরে রণক্ষেত্র বঙ্গ রাজনীতি

বাংলার মানুষের আবেগের নাম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। কিন্তু সেই নেতাজির রহস্যময় ‘অন্তর্ধান’ বা ‘মৃত্যুদিন’ নিয়েই এবার নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে গিয়ে বড়সড় বিতর্কে জড়াল বিজেপি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর এলাকায় বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সমর্থনে লাগানো একটি পোস্টারে নেতাজির নির্দিষ্ট ‘মৃত্যুদিন’ উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বইছে ঝোড়ো হাওয়া।

বিতর্কের মূলে কী?
বিজেপির ওই প্রচার পোস্টারে নেতাজির ছবির নিচে ১৮ আগস্ট, ১৯৪৫ তারিখটিকে তাঁর ‘মৃত্যুদিন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ, ভারত সরকার আজ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নেতাজির মৃত্যুদিন ঘোষণা করেনি। ১৯৪৫-এর বিমান দুর্ঘটনা তত্ত্ব নিয়ে আজও একাধিক কমিশন ও গবেষকদের মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে। ফলে, এমন একটি স্পর্শকাতর ও অমীমাংসিত বিষয়কে নির্বাচনী পোস্টারে স্থান দেওয়াকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদ ও সাধারণ মানুষ।

তৃণমূলের তোপ: “বাঙালির আবেগে আঘাত”
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছেন রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পল্লব কুমার দাস। তিনি কড়া ভাষায় নিন্দা করে বলেন, “নেতাজি বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িত। তাঁর মৃত্যু নিয়ে সরকারি কোনো ঘোষণা নেই, সেখানে এই ধরনের পোস্টার চরম বিভ্রান্তিকর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।”

রাহুল গান্ধীর সেই পুরনো বিতর্কের ছায়া
মজার বিষয় হলো, নেতাজির মৃত্যুদিন নিয়ে এই একই ধরনের ভুল তথ্য দিয়ে এর আগে দু’বার (২০১৯ এবং ২০২৪-এর শুরুতে) বিতর্কে জড়িয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর এক্স হ্যান্ডলে (টুইটার) নেতাজির জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করে পোস্ট করায় দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। এবার বাংলায় ভোটের মুখে একই ভুল করে বসল বিজেপি।

ব্যাকফুটে বিজেপি? সরানো হলো পোস্টার
বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই সোনারপুরের ওই এলাকা থেকে তড়িঘড়ি বিতর্কিত পোস্টারগুলি খুলে ফেলা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। কার নির্দেশে বা কীভাবে যাচাই না করে এমন সংবেদনশীল তথ্য পোস্টারে ছাপা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরেও।