অভিষেকের গড়ে যোগীর ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’! তুঙ্গে উত্তেজনা, এবার গর্জে উঠলেন অখিলেশ যাদব

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা। সেনা, পুলিশ আর সাঁজোয়া গাড়ির ভিড়ে তপ্ত বাংলার মাটি। এর মধ্যেই আগুনের ঘি ঢালল নির্বাচন কমিশনের একটি সিদ্ধান্ত। তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুর্ভেদ্য দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবারে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নামানো হয়েছে উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে।
ইতিমধ্যেই ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে তল্লাশি এবং প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়ে বিতর্কের শিরোনামে উঠে এসেছেন এই দুঁদে অফিসার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপ্রদেশ—সর্বত্র শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
অখিলেশ যাদবের তোপ: “এজেন্টদের পাঠিয়ে ফল হবে না”
অজয় পাল শর্মার নিয়োগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি লেখেন, “বিজেপি তাদের পরীক্ষিত এজেন্টদের পর্যবেক্ষক সাজিয়ে পাঠিয়েছে। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হবে না। পশ্চিমবঙ্গে দিদি আছেন, দিদিই থাকবেন।” অখিলেশ এখানেই থামেননি। তিনি এই অফিসারদের ‘অন্ধকার জগতের সদস্য’ বলে অভিহিত করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, গণতন্ত্রে এই সব ‘অ্যাজেন্ডার এজেন্ট’দের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঠিক তদন্ত হবে। তাঁর কথায়, “ওদের পালাতে দেব না, আন্ডারগ্রাউন্ডেও যেতে দেব না। টেনে হিঁচড়ে আনা হবে এবং সাজা পেতেই হবে।”
তৃণমূলের প্রশ্ন: কে এই ‘সিঙ্ঘম’ অজয় পাল শর্মা?
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও অজয় পাল শর্মার অতীত রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইউপি-তে ‘সিঙ্ঘম’ নামে পরিচিত এই অফিসারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের গুরুতর মামলা রয়েছে বলে দাবি করেছে জোড়া-ফুল শিবির।
এক নজরে আইপিএস অজয় পাল শর্মার বিতর্কিত প্রোফাইল:
এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট: ২০১১ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসারের নামে উত্তরপ্রদেশে অসংখ্য এনকাউন্টারের রেকর্ড রয়েছে।
বিতর্কিত অতীত: ২০২০ সালে ‘ক্যাশ ফর পোস্টিং’ (টাকার বিনিময়ে পোস্টিং) বিতর্কে জড়িয়ে সাসপেন্ড হয়েছিলেন তিনি। বিভাগীয় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছিল।
ব্যক্তিগত অভিযোগ: এক মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও বিয়ে করে প্রতারণার মামলাও দায়ের করেছিলেন।
ভুয়ো এনকাউন্টারের ছায়া: ২০১৮ সালে আকবর নামে এক ব্যক্তিকে বেঙ্গালুরু থেকে তুলে এনে শামলীতে ভুয়ো এনকাউন্টারে মারার অভিযোগ রয়েছে তাঁর টিমের বিরুদ্ধে।
শঙ্করাচার্যের তোপ: এমনকি শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দও নিজের জেলযাত্রার জন্য এই অজয় পাল শর্মাকেই দায়ী করেছিলেন।
ডায়মন্ড হারবারে নজর কেন?
রাজনৈতিক মহলের মতে, ডায়মন্ড হারবার যেহেতু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র, তাই সেখানে কমিশন বাড়তি সতর্ক। তবে একজন বিতর্কিত এবং যোগী আদিত্যনাথের অতি ঘনিষ্ঠ অফিসারকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোয় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।
ভোটের আগে এই ‘সিঙ্ঘম’ ফ্যাক্টর বাংলার নির্বাচনের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, ডায়মন্ড হারবারের ময়দানে এই অফিসারকে ঘিরে রাজনীতির জল কতদূর গড়ায়।