স্ট্রংরুমে কড়া পাহারা, বাইরে হিসেব কষছে আমজনতা! ৪ মে কি বাজিমাত করবে তৃণমূল না কি গেরুয়া ঝড়?

প্রথম দফার ভোট উৎসব সম্পন্ন। এখন প্রার্থীদের ভাগ্য ইভিএম-এ বন্দি হয়ে রয়েছে স্ট্রংরুমের নিশ্ছিদ্র পাহারায়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের ১২২ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে আগামী ৪ মে, সোমবার। তবে ভোট মিটলেও উত্তাপ কমেনি একটুও; বরং স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে পাড়ার চায়ের ঠেক—সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন: ‘পরিবর্তন না কি প্রত্যাবর্তন?’
চায়ের আড্ডায় রাজনীতির ‘পোস্টমর্টেম’
যদিও রাজ্যে এখনও দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনের ভোট বাকি, কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুরের আমজনতা এখনই ভবিষ্যৎবাণী করতে ব্যস্ত। চায়ের কাপে তুফান তুলে কেউ বলছেন, “তৃণমূল ২০০-র বেশি আসন নিয়ে চতুর্থবার সরকার গড়বে।” আবার কারও পাল্টা দাবি, “পরিবর্তন হয়েই গিয়েছে, ৪ তারিখ শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি। এবার ক্ষমতা আসবে বিজেপির হাতে।” পিছিয়ে নেই বাম-কংগ্রেস জোটের সমর্থকরাও। মোদ্দা কথা হলো, ভোট মিটলেও ভোটের আলোচনার কোনো বিরাম নেই।
এক নজরে পশ্চিম মেদিনীপুরের ভোটের খতিয়ান:
মোট বিধানসভা কেন্দ্র: ১৫টি (কেশপুর, ঘাটাল, দাসপুর, সবং, পিংলা, খড়গপুর ইত্যাদি)।
মোট প্রার্থী: ১২২ জন (তৃণমূল, বিজেপি, বাম-কংগ্রেস জোট, SUCI ও অন্যান্য)।
ভোট গণনার দিন: ৪ মে, সোমবার।
গণনা কেন্দ্র: জেলার ১৫টি আসনের ভোট গণনা হবে ৪টি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে।
ভোটার সংখ্যা ও বিশেষ বুথ
জেলা নির্বাচন কমিশন ও জেলাশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
মোট ভোটার: ৩৭ লক্ষ ৭০ হাজার ৭৯৪ জন।
লিঙ্গভেদে: ১৯ লক্ষ ১৯ হাজার ৫৪৬ জন পুরুষ এবং ১৮ লক্ষ ৫১ হাজার ২২৮ জন মহিলা ভোটার। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ছিল ২০।
বুথ সংখ্যা: মোট পোলিং স্টেশন ৪৩৩৩টি এবং অক্সুলারি বুথ ৪৭৫৩টি।
নারীশক্তির জয়জয়কার
এবার বিশেষ নজর কেড়েছে ৪০৮টি মহিলা পরিচালিত বুথ। কমিশন জানিয়েছে, ভোট প্রক্রিয়ায় মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং নারী কর্মীদের উৎসাহিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। স্পর্শকাতর বুথগুলোতে মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এখন জেলাবাসীর নজর ৪ মে-র দিকে। সেদিনই পরিষ্কার হবে মেদিনীপুরের মাটি শেষ পর্যন্ত কার দিকে পাল্লা দিল। জনতা কি উন্নয়নের পক্ষে রায় দিল, না কি পরিবর্তনের ডাকে সাড়া দিল—তার উত্তর দেবে ওই সিল করা ইভিএম।