“ব্যারাকপুরই আমার দ্বিতীয় বাড়ি, সন্তানদের নিয়ে এখানেই থাকব!” রাজের প্রচারে আবেগঘন বার্তা শুভশ্রীর!

পর্দায় তিনি টলিউডের সুপারস্টার, কিন্তু ব্যারাকপুরের রাজপথে তিনি স্রেফ ‘ঘরের বউ’। ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে ব্যারাকপুরে তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীর হয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন তাঁর পরিণীতা শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। সোমবার শ্বেতশুভ্র শাড়িতে সেজে স্বামীর সঙ্গে রোড-শোয়ে নামতেই ব্যারাকপুরের রাজপথে আছড়ে পড়ল জনজোয়ার। প্রিয় নায়িকাকে একঝলক দেখতে ভিড় জমালেন আট থেকে আশি।

“ব্যারাকপুরই আমার ঘর”, আবেগঘন শুভশ্রী
নির্বাচনী সভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে এদিন কেবল রাজনীতির কথা নয়, হৃদয়ের কথা বললেন শুভশ্রী। জনতাকে সাক্ষী রেখে তিনি বলেন, “ব্যারাকপুর এখন আমার দ্বিতীয় বাড়ি। রাজ সপ্তাহের পাঁচদিনই এখন এখানে কাটান। ভবিষ্যতে আমার দুই সন্তানকে (ইউভান ও ইয়ালিনি) নিয়ে এখানেই থাকতে হবে।” শুভশ্রীর এই কথাগুলো যেন নিমেষেই তাঁকে ব্যারাকপুরবাসীর অতি আপন করে তুলল।

চক্রবর্তী দম্পতির ‘হোয়াইট’ কেমিস্ট্রি
রবিবারের পর সোমবারও রাজের সমর্থনে প্রচার চালালেন শুভশ্রী। এদিন রাজ ও শুভশ্রী দুজনেই পরেছিলেন সাদা পোশাক। এই ‘রং মিলান্তি’ আর দুজনের হাসিমুখ প্রচারের উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শুভশ্রী স্পষ্ট জানান:

তিনি রাজের কাজের প্রতি আস্থাশীল।

গত কয়েক বছরে রাজ ব্যারাকপুরের জন্য যে উন্নয়ন করেছেন, মানুষ তার প্রতিদান দেবেন বলেই তাঁর বিশ্বাস।

রাজনৈতিক আদর্শের চেয়েও মানুষের ভালোবাসা তাঁর কাছে বড়।

শুটিং আর রাজনীতির মাঝে ভারসাম্য
ইউভান আর একরত্তি ইয়ালিনির দায়িত্ব সামলে, টলিউডের ব্যস্ত শিডিউল থেকে সময় বের করে রাজের পাশে দাঁড়ানো— শুভশ্রীর এই ভূমিকার প্রশংসা করছেন অনেকেই। সম্প্রতি ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের ছবির কাজ শেষ করেছেন তিনি। সামনেই আসছে দেবের সঙ্গে বড় প্রজেক্ট ‘দেশু ৭’। এত ব্যস্ততার মাঝেও স্ত্রীর এই সমর্থন পেয়ে আপ্লুত রাজও। তাঁর কথায়, “শুভশ্রী পাশে থাকলে আমার শক্তি দ্বিগুণ হয়ে যায়।”

২০১৮ সালে শুরু হওয়া রাজ-শুভশ্রীর এই রূপকথার সফর এবার রাজনীতির আঙিনায় কতটা সফল হয়, তার উত্তর দেবে সময়। তবে প্রচারের শেষ লগ্নে শুভশ্রীর এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ যে রাজের পালে বাড়তি হাওয়া দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।