রেশন থেকে সোনা পাচার— ইডির সাঁড়াশি অভিযানে তটস্থ কলকাতা! উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা ও ‘বেআইনি’ আগ্নেয়াস্ত্র!

শহর কলকাতায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (ED) ম্যারাথন তল্লাশিতে ফের চাঞ্চল্য। বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু-র আর্থিক তছরুপ মামলার তদন্তে নেমে রবিবার সাতসকাল থেকে শহরের তিন জায়গায় হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। আলিপুর এবং আনন্দপুরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে নগদ টাকা, কয়েক ভরি সোনার গয়না এবং অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর কিছু নথি।
কী কী উদ্ধার হলো এই তল্লাশিতে?
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, রবিবারের এই অভিযানে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ সোনার অলঙ্কার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে টাকার চেয়েও তদন্তকারীদের বেশি ভাবিয়ে তুলেছে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইস এবং নথিগুলি। ইডির দাবি, এই নথিগুলো থেকে রাজনৈতিক মহলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে বড়সড় আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত মিলেছে। উঠে আসছে হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের তত্ত্বও।
তদন্তের কেন্দ্রে ‘সোনা পাপ্পু’ ও জয় কামদার
মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু এখনও পলাতক থাকলেও, তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামদারকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে ইডি। মঙ্গলবার জয়ের হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। জেরা চলাকালীন তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন:
জয় কামদার ও সোনা পাপ্পুর মধ্যে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ হলো, জয় কামদার সোনা পাপ্পুর স্ত্রীকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র পাঠিয়েছিলেন, যার কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেননি ওই মহিলা।
রেশন দুর্নীতিতেও তৎপরতা: বাজেয়াপ্ত লক্ষাধিক টাকা
শুধু সোনা পাপ্পু মামলাই নয়, সমান্তরালভাবে রেশন দুর্নীতি মামলাতেও কোমর বেঁধে নেমেছে ইডি। গত শনিবার কলকাতা, হাবড়া এবং বর্ধমানের মোট ১১টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেখান থেকে প্রায় ১৮.৪ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে, দুর্নীতির শিকড় আরও গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে।
শহর জুড়ে ইডির এই সাঁড়াশি অভিযান এখন টক অফ দ্য টাউন। উদ্ধার হওয়া নথি থেকে আগামী দিনে আর কোন কোন প্রভাবশালীর নাম সামনে আসে, এখন সেটাই দেখার।