ডিজিটাল প্রচারে খরচের সুনামি! মেটা-গুগলে টাকার খেলা, কোন দল কত কোটির বাজি খেলল?

এখন ভোটের ময়দান শুধু রাজপথের সভা-সমাবেশ বা মাইকের গর্জনেই সীমাবদ্ধ নেই; প্রচারের লড়াই এখন হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনে। ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা গুগল—ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আধিপত্য বজায় রাখতে জলের মতো টাকা খরচ করছে রাজনৈতিক দলগুলি। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারের ডিজিটাল খরচের যে খতিয়ান সামনে এসেছে, তা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় খরচের রাজা কে?
নির্বাচনী রিপোর্টে একটি বিষয় পরিষ্কার—ডিজিটাল প্রচারে বাকি সব দলকে যোজন যোজন দূরে ফেলে দিয়েছে বিজেপি। গুগলের ‘অ্যাড ট্রান্সপারেন্সি সেন্টার’ এবং মেটার ‘অ্যাড লাইব্রেরি’র তথ্য বলছে, ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে:
বিজেপি: পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল এবং অসমে মোট ৪০ কোটিরও বেশি টাকা খরচ করেছে। এই সময়ের মধ্যে তারা প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি বিজ্ঞাপন দিয়েছে, যার সিংহভাগই ছিল পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে।
তৃণমূল কংগ্রেস: ঘাসফুল শিবির মূলত ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের (মেটা) ওপর বেশি ভরসা রেখেছে। এই প্ল্যাটফর্মে তাদের খরচ প্রায় ১.৮ কোটি টাকা। তবে গুগলের বিজ্ঞাপনে তাদের বিশেষ সক্রিয়তা দেখা যায়নি।
জাতীয় কংগ্রেস: ডিজিটাল রেসে অনেকটাই পিছিয়ে কংগ্রেস। চার রাজ্য মিলিয়ে তাদের খরচ ৫ কোটি টাকারও কম। কেরল ও অসমে কিছু বিজ্ঞাপন দেখা গেলেও পশ্চিমবঙ্গের জন্য বড় কোনো অনলাইন ক্যাম্পেইন চোখে পড়েনি।
আঞ্চলিক দলের কৌশল: অফিশিয়াল বনাম সমর্থক পেজ
ডিজিটাল প্রচারের ক্ষেত্রে দলগুলোর কৌশলও ভিন্ন। বিজেপি মূলত তাদের অফিশিয়াল এবং রাজ্যভিত্তিক পেজ থেকে সরাসরি বিজ্ঞাপন দেয়। ফলে প্রচারের রাশ থাকে দলের হাতেই।
অন্যদিকে, তৃণমূল বা ডিএমকে-র মতো আঞ্চলিক দলগুলো সমর্থক ও তৃতীয় পক্ষের (Third-party) পেজের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। উদাহরণস্বরূপ:
তৃণমূলের ক্ষেত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিশিয়াল পেজ এবং অন্যান্য সমর্থক পেজ মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা।
তামিলনাড়ুর শাসক দল DMK-র সমর্থক পেজগুলি প্রচারের জন্য খরচ করেছে প্রায় ২.৫ কোটি টাকা।
ধোঁয়াশা কি রয়েই গেল?
এত হিসেব নিকেশের পরেও কিন্তু আসল খরচের অঙ্কটা এখনও অধরা। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR) জানাচ্ছে, গুগল বা মেটার মতো প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের খরচ নিয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট মানসম্মত রিপোর্টিং ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে সমর্থক পেজগুলির অনেক খরচই সরকারি হিসাবের বাইরে থেকে যায়। ফলে ডিজিটাল প্রচারের প্রকৃত খরচ যে আরও বহুগুণ বেশি, তা বলাই বাহুল্য।