বিশ্বজুড়ে তেলের হাহাকার বন্ধের ইঙ্গিত! হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে বড় চাল ইরানের, চাপে পড়বে আমেরিকা?

দীর্ঘদিনের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং চরম উত্তেজনার মাঝে এবার বড়সড় মোড়। আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত মেটাতে এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করতে ওয়াশিংটনকে নতুন প্রস্তাব পাঠাল ইরান। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই গোপন বার্তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেবিলে পৌঁছেছে।
ইরানের নতুন প্রস্তাবে কী আছে?
অ্যাক্সিওস (Axios)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরানের পাঠানো এই প্রস্তাবে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
-
যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো অথবা স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো।
-
হরমুজ প্রণালী মুক্ত করা: বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও এলপিজি গ্যাস সরবরাহকারী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ থেকে অবরোধ সরিয়ে নেওয়া।
-
পরমাণু আলোচনা স্থগিত: ইরান প্রস্তাব দিয়েছে যে, আগে অবরোধ তুলে নেওয়া হোক এবং শান্তি ফিরুক; পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা হবে পরবর্তী ধাপে।
ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ও শর্ত
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, এই সংবেদনশীল প্রস্তাবটি তারা হাতে পেয়েছেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর অবস্থানে অনড়। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাঁর দুটি প্রধান শর্ত রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ট্রাম্পের কথায়, “চুক্তিতে কী থাকতে হবে তা ওরা জানে। পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে আলোচনার কোনো জায়গাই নেই।”
কেন সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি?
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল ‘হরমুজ প্রণালী’ মার্কিন নৌবাহিনী অবরুদ্ধ করে রাখায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইরান এই অচলাবস্থা কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাইলেও, পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে তারা এখনই কোনো গ্যারান্টি দেয়নি।
বিশেষজ্ঞের নজর: কূটনৈতিক মহলের মতে, ইরান চাইছে আগে অবরোধ তুলে নিয়ে নিজেদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এখনই কোনো ছাড় দিতে নারাজ। পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।