শহুরে গরিবদের ওপর নামবে চরম বিপর্যয়! বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্যে কাঁপছে বিশ্ব, বাঁচার উপায় কী?

চলতি এপ্রিলের চড়া রোদে যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা সাধারণ মানুষের, ঠিক তখনই বিশ্বব্যাঙ্কের একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট রাতের ঘুম কেড়ে নিল পরিবেশবিদদের। তাপপ্রবাহের গ্রাস থেকে বাদ যাবে না কেউ, তবে এর চরম বলি হতে চলেছেন নিম্ন আয়ের দেশগুলোর দরিদ্র মানুষ।

⚠️ ৭০০ শতাংশ বাড়বে ঝুঁকি!

ইউএন-হ্যাবিট্যাট এবং ইউএনইপি-এর সহযোগিতায় প্রকাশিত বিশ্বব্যাঙ্কের হ্যান্ডবুকে বলা হয়েছে, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহের শিকার হতে যাওয়া শহুরে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বিশ্বব্যাপী ৭০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

  • সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (যার মধ্যে ভারত অন্যতম) এবং পশ্চিম আফ্রিকা।

  • বিশ্বব্যাঙ্ক এই পরিস্থিতিকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা কেবল মানুষের স্বাস্থ্য নয়, গিলে খাবে বিশ্ব অর্থনীতিকেও।

📉 অর্থনীতির ওপর কোপ

রিপোর্ট অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের জেরে উৎপাদনশীলতা কমবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জিডিপি (GDP) প্রায় ১.৪% থেকে ১.৭% পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। অতিরিক্ত কংক্রিটের জঙ্গল এবং গাছপালার অভাবের কারণে শহরগুলোর তাপমাত্রা গ্রামাঞ্চলের তুলনায় ৩-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

🏠 বাঁচার পথ কী? বিশ্বব্যাঙ্কের বিশেষ পরামর্শ

এই নরকগুলজার গরম থেকে বাঁচতে কিছু কার্যকরী ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে হ্যান্ডবুকটিতে:

১. কুল রুফ বা শীতল ছাদ: বাড়ির ছাদে সাদা রঙের প্রলেপ বা তাপ প্রতিফলক টাইলস ব্যবহার করুন। এতে ঘরের তাপমাত্রা ২-৫ ডিগ্রি পর্যন্ত কমানো সম্ভব। ২. সবুজায়ন: বাড়ির চারপাশে যতটা সম্ভব গাছ লাগান। বড় জায়গা থাকলে ছোট ছোট বন তৈরি করার চেষ্টা করুন, যা প্রাকৃতিক এসির কাজ করবে। ৩. নির্মাণ কৌশলে বদল: বাড়ির ভেতরে হাওয়া চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখুন এবং কংক্রিটের বদলে তাপ শোষণকারী নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের চেষ্টা করুন।

মনে রাখবেন, জলবায়ু পরিবর্তন কেবল পরিবেশের ক্ষতি নয়, আপনার পকেটে এবং জীবনেও বড় আঘাত হানতে চলেছে। সচেতন হওয়াই এখন একমাত্র পথ।

Samrat Das
  • Samrat Das